চারজন স্বাধীন পরিচালকের পদত্যাগের ঘটনায় ব্যাংকের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির বক্তব্য, বিষয়টি পুরোপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চাওয়া ব্যাখ্যার জবাবে তারা এ কথা জানিয়েছে। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিএসইর ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পাঁচজন স্বাধীন পরিচালকের মধ্যে চারজন পদত্যাগ করার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির কাছে ব্যাখ্যা চায় সিএসই। সেই চিঠির উত্তরেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
ব্যাংকের ভাষ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া পাঁচ স্বাধীন পরিচালকের মেয়াদ শেষ হওয়া বা তাঁদের প্রত্যাহারের সঙ্গে এ ঘটনা যুক্ত। এ বিষয়ে ব্যাংকের নিজস্ব কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল না। চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার সঙ্গেই সম্পর্কিত।
ওই নির্দেশনার মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আগের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর পর্ষদে পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, পদত্যাগের বিষয়ে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ বা নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা তারা মেনে চলে।
এই ঘটনার পটভূমিতে কিছু বিষয় লক্ষণীয়। স্বাধীন পরিচালকেরা সাধারণত পর্ষদে নিরপেক্ষ তদারকির ভূমিকা রাখেন। ফলে একসঙ্গে চারজনের বিদায় ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোর ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও এ বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রত্যাশা করেন। তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ কী, তা ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। নতুন পরিচালক নিয়োগ হবে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

