নিজের কেনা জাহাজ নতুন করে আমদানি দেখিয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগে মেঘনা গ্রুপের প্রায় ৪১০ কোটি টাকার একটি ঋণপত্র (এলসি) বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, বিএফআইইউর নিজস্ব অনুসন্ধানে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরই মেঘনা ব্যাংককে কঠোর এই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে বিষয়টি নিয়ে বিএফআইইউ, মেঘনা ব্যাংক ও মেঘনা গ্রুপের মধ্যে একটি বৈঠকও হয়েছিল, তবে সেখানে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরই এলসি বাতিলের নির্দেশনা আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএফআইইউর প্রধান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে কোম্পানি খোলা এবং নিজের মালিকানাধীন জাহাজ নিজেরই অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন করে আমদানি দেখানোর ঘটনায় স্পষ্টভাবেই অর্থ পাচারের উদ্দেশ্য ছিল। তাঁর ভাষায়, অনুসন্ধান শেষে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এলসি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেঘনা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পাওয়ার পরই তাঁরা এলসিটি বাতিল করতে মেঘনা গ্রুপকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে মেঘনা ব্যাংকের একটি প্রধান শাখা থেকে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ আমদানির উদ্দেশ্যে একটি এলসি অনুমোদন করা হয়েছিল। এতে রপ্তানিকারক ও মূল সুবিধাভোগী হিসেবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়, যেটি মেঘনা গ্রুপেরই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর নথিপত্র পর্যালোচনা করে বিএফআইইউ দেখতে পায়, এলসি খোলার অনেক আগে থেকেই জাহাজটির প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল মেঘনা গ্রুপের হাতেই। নথি অনুযায়ী, পানামায় নিবন্ধিত জাহাজটি ২০১৯ সাল থেকেই মেঘনা গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় ছিল। পরে ২০২৫ সালে এটি বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং চলতি বছরের শুরুতে জাহাজটির নামও পরিবর্তন করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন হলো, একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি না নিয়ে বিদেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, অন্যদিকে নিজের মালিকানাধীন জাহাজকেই ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন আমদানি হিসেবে দেখিয়ে ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা পুরো লেনদেনটিকে সুপরিকল্পিত অর্থ পাচারের একটি ঘটনা হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ।

