ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি শরিয়াহসম্মত অর্থায়ন ব্যবসা শুরুর নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ইসলামিক ফাইন্যান্স উইং চালুর অনুমতি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ন তথ্য অনুযায়ী, এই উইন্ডোর মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা, একটি স্বাধীন শরিয়াহ তদারকি কমিটি গঠন, পৃথক ইসলামিক ফাইন্যান্স বিভাগ স্থাপন, ইসলামি তহবিল আলাদাভাবে সংরক্ষণ, পরিচালনা নির্দেশিকা তৈরি এবং পৃথক হিসাব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে এক টাকা এগারো পয়সা, আগের বছর যা ছিল উননব্বই পয়সা। বছর শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে সতেরো টাকার কিছু বেশি।
এর আগের দুই বছরেও একই হারে—পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস—লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০২৪ সালে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল উননব্বই পয়সা এবং ২০২৩ সালে ছিল আটাশি পয়সা, যেখানে তার আগের বছরে এই আয় ছিল তুলনামূলক বেশি, দুই টাকা তেতাল্লিশ পয়সা। এই তিন বছরে কোম্পানির নিট সম্পদমূল্য ধারাবাহিকভাবে সামান্য বেড়ে সাড়ে সতেরো টাকার ঘরে স্থিতিশীল থেকেছে।
একটি স্বীকৃত ঋণমান নিরূপণ প্রতিষ্ঠান আইপিডিসিকে দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ মান এবং স্বল্পমেয়াদেও সর্বোচ্চ শ্রেণির রেটিং দিয়েছে, যা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য গুণগত-পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুই হাজার ছয় সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ আটশ কোটি টাকা, আর পরিশোধিত মূলধন প্রায় সাড়ে চারশ ত্রিশ কোটি টাকা। কোম্পানির রিজার্ভে রয়েছে প্রায় দুইশ ষাট কোটি টাকা, এবং মোট শেয়ার সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। এর মধ্যে চল্লিশ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে, সরকারের মালিকানায় প্রায় বাইশ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রায় উনিশ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে সামান্য অংশ এবং বাকি প্রায় উনিশ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দেশের ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক খাতে শরিয়াহভিত্তিক সেবার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, এবং এই ধারায় নতুন প্রতিষ্ঠানের যুক্ত হওয়া গ্রাহকদের জন্য বিকল্প সুযোগ তৈরি করবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ করাই এখন প্রতিষ্ঠানটির জন্য মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।

