ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্যাংকটি।
নতুন এই নিয়োগ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন বলেছেন, ব্যাংকটি এখন প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এবং এই পর্যায়ে শক্তিশালী সুশাসন ও কৌশলগত তদারকির গুরুত্ব অনেক বেশি। তাঁর মতে, গবেষণা, শিক্ষা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে ড. রাজ্জাকের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন এই পরিচালকের দিকনির্দেশনা ব্যাংকের সুশাসন কাঠামো মজবুত করার পাশাপাশি সব অংশীজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরিতেও সহায়ক হবে।
ড. রাজ্জাকের কর্মজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, অর্থনীতি, গবেষণা, উন্নয়ন ও জননীতি—এই চার ক্ষেত্রে দেশে এবং বিদেশে তাঁর কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত। বর্তমানে তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের একটি নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর কর্মজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে লন্ডনে, যেখানে তিনি কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিবিষয়ক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি বাণিজ্য নীতি ও বৈশ্বিক অ্যাডভোকেসি বিষয়ক কার্যক্রমে কমনওয়েলথের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতাও করেছেন।
আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়া, ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি নিয়ে একাধিক গবেষণা ও কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, নীতি বিশ্লেষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত।
বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তিনি একাধিকবার জি-২০ জোটের উন্নয়নবিষয়ক কার্যকরী গোষ্ঠীর সামনে প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা দিয়েছেন, এবং যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের একাধিক কমিটির সামনে সাক্ষ্য উপস্থাপনের জন্যও তিনি আমন্ত্রিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণ এবং জননীতিবিষয়ক সংলাপে যুক্ত আছেন তিনি। তাঁর কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণ ও পরবর্তী সমন্বয় প্রক্রিয়া, বাণিজ্য ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শ্রমবাজার, দারিদ্র্য ও অসমতা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, অভিবাসন ও রেমিট্যান্স এবং সার্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয়াবলি।
তিনি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অবদান রেখেছেন—বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে। এর বাইরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগেও খণ্डকালীন অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত আছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে ড. রাজ্জাক যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তাঁর নিজের লেখা একাধিক বই, জার্নাল প্রবন্ধ এবং নীতি বিষয়ক গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে।

