সিস্টেম আপগ্রেডের পর কিউ-ক্যাশের সেবায় বিঘ্ন ঘটায় ৩১টি ব্যাংকের গ্রাহক কার্ড ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে কিউ-ক্যাশের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কার্ডসংক্রান্ত সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কিউ-ক্যাশের সিস্টেম আপগ্রেডের পর গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে কার্ড, এটিএম এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবায় সমস্যা শুরু হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর গ্রাহকেরা লেনদেন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা ও আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ৩১টি ব্যাংকের সেবা ব্যাহত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন এই বিভ্রাটে আক্রান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবাদাতাদের স্বাভাবিক লেনদেন চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত অন্য পেমেন্ট ব্যবস্থাও ঠিকঠাক কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ অটোমেটেড চেক প্রসেসিং সিস্টেম (বিএসিপিএস), বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) এবং রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস)।
বিঘ্ন চলাকালে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনে বিকল্প পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
ঘটনাটি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতার দিক সামনে এনেছে। একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম আপগ্রেড করতে গিয়ে সমস্যা হলে একসঙ্গে ৩১টি ব্যাংকের গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। অর্থাৎ অনেক ব্যাংক একই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হলে সেখানকার একটি ত্রুটির প্রভাব বহুগুণ বড় হয়ে ওঠে। এ কারণে সিস্টেম হালনাগাদের মতো কাজে আগাম প্রস্তুতি, পরীক্ষা ও সমস্যা হলে আগের অবস্থায় ফেরার ব্যবস্থা কতটা শক্ত ছিল, সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।
আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিঘ্নটি মূলত কার্ড, এটিএম ও এনপিএসবি–সংশ্লিষ্ট কিছু সেবায় সীমিত ছিল। মোবাইল ব্যাংকিং ও বড় অঙ্কের আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় পুরো আর্থিক খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি। তবে যাঁরা কার্ড বা এটিএমের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য কয়েক দিনের এই সমস্যা সামান্য নয়।
এখন পর্যন্ত বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সেবা পুরোপুরি কবে স্বাভাবিক হবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। কত গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে তথ্যও জানা যায়নি। কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষ তলবের জবাবে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং কত দ্রুত সেবা ফিরিয়ে আনতে পারে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো নির্দেশনা বা নজরদারি বাড়ায় কি না, তাও দেখার বিষয়।

