বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, অর্থ বিনিময় এবং সোনা আমদানি ও ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নপ্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করতে বিদ্যমান নির্দেশনাগুলো একীভূত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে অনুমোদিত ডিলার, মানি চেঞ্জার, সীমিত পরিসরের মানি চেঞ্জার, অনুমোদিত সোনার ব্যবসায়ী এবং সোনার আকরিক ও অপরিশোধিত সোনা আমদানিকারকদের জন্য একটি সমন্বিত নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শনিবার জারি করা এই নির্দেশনায় আগের বিধিবিধানগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধন ও হালনাগাদসহ একটি নথিতে সংকলন করা হয়েছে। লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার পরিচালনপ্রক্রিয়া সহজ ও সুশৃঙ্খল করাই এর মূল উদ্দেশ্য। নির্দেশনাটি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনার আওতাভুক্ত বিষয়গুলোতে আগের জারি করা নির্দেশনাগুলো সংশ্লিষ্ট অংশে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন কোনো নির্দেশনা, সংশোধনী বা ব্যাখ্যা জারি করলে সেটিই প্রাধান্য পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনাটি ছয়টি ভাগে বিভক্ত। এতে লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের প্রক্রিয়া, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, সোনা আমদানি ও রপ্তানি, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে করণীয়, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সোনার আকরিক ও অপরিশোধিত সোনা আমদানির অনুমোদিত আমদানিকারক হওয়ার যোগ্যতা এবং আবেদন করার পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন একটি সমন্বিত নির্দেশনায় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি এবং বিধিবিধান অনুসরণের প্রক্রিয়াও আরও সুসংহত করার সুযোগ থাকবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলাররা গ্রাহকদের পক্ষে মানি চেঞ্জার ও অনুমোদিত সোনার ব্যবসায়ীর লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবেন। পরে আবেদনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো যাবে।
তবে আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো মানেই লাইসেন্স পাওয়া নিশ্চিত নয়। লাইসেন্স প্রদান করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেই থাকবে।
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং সোনা আমদানি-রপ্তানির মতো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবসার সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং অর্থের প্রবাহ সরাসরি যুক্ত থাকায় অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের বিধান অনুসরণও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
নতুন নির্দেশনায় লাইসেন্সের যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া, প্রতিবেদন জমা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন ও লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো একটি নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ও সোনার ব্যবসার লাইসেন্সসংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মগুলোকে একীভূত করার পদক্ষেপ। তবে নতুন নির্দেশনা বাস্তবে কতটা প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এবং নিয়মকানুনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারে, তা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন ও তদারকির ওপর।

