দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। এক বছর আগের একই মাসের (৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা) চেয়ে তা ৯৪৫ কোটি টাকা বা ৩০ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি। তবে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে লেনদেন ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোর বা বিপণিবিতানে, যা মোট লেনদেনের ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।
জুলাইয়ে এ খাতে খরচ ছিল ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা (৫০ দশমিক ৩১ শতাংশ)। অর্থাৎ এক মাসে এ খাতে খরচ প্রায় ২০৭ কোটি টাকা কমেছে। সামগ্রিক লেনদেন কমার পেছনে এই হ্রাসের ভূমিকা বড় বলে মনে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে মোট খরচের ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়েছে পণ্য ও সেবা কেনায়, আর নগদ টাকা উত্তোলনে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা, ব্যাংকগুলোর প্রচারমূলক সুবিধা এবং বিপণিবিতানে কার্ড গ্রহণের সুযোগ বাড়ায় এ খাতে কার্ডের ব্যবহার বেশি।
বিদেশেও কার্ডে খরচ কম নয়। আগস্টে বাংলাদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডে বিদেশে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি ও প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা।
বিপরীতে বিদেশে ইস্যু করা কার্ডে বাংলাদেশে আগস্টে লেনদেন হয়েছে ২৪৯ কোটি টাকা, যা জুলাইয়ের (২৩৪ কোটি) চেয়ে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। তবে এ অঙ্ক বিদেশে বাংলাদেশিদের খরচের চার ভাগের এক ভাগের কিছুটা বেশি।
আগস্ট শেষে ৪৭টি তফসিলি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণসীমা ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। কার্ডধারীদের বকেয়া ঋণ ছিল ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা, যা ঋণসীমার প্রায় ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে ইস্যু করা ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ, আর এসব কার্ডে লেনদেনের মোট আর্থিক পরিমাণ বেড়েছে ১০৩ শতাংশ।

