কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত দুটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় পাবনার ২৭ জন কৃষি ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার জন্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার মঞ্জুরিপত্র ও চেক বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক টাউনহল সভায় এসব মঞ্জুরিপত্র ও চেক হস্তান্তর করা হয়। স্কিম দুটির মোট তহবিল ১৩ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি। অন্যদিকে, ৩ হাজার কোটি টাকার স্কিমটির উদ্দেশ্য উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান, রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালী, অগ্রণী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল করিম এবং পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু ছাঈদ মুহাম্মদ ইদ্রিস।
ইসলামী ব্যাংকের পাবনা শাখা এবং অগ্রণী ব্যাংকের পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয় যৌথভাবে লিড ব্যাংক হিসেবে সভাটির সমন্বয় করে। এতে পাবনা অঞ্চলে কর্মরত বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকের পাশাপাশি কৃষি ও এসএমই উদ্যোক্তারা অংশ নেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পুনঃঅর্থায়ন স্কিম দুটির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রচার এবং সমন্বয় বাড়ানোই সভার অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তহবিলের সামগ্রিক ব্যবহার, কতজন উদ্যোক্তা শেষ পর্যন্ত অর্থায়ন পাবেন এবং কর্মসংস্থানে এর কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি থেকে বোঝা যাবে।

