দেশের আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দাম আরও বেড়ে ১২৪ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তেল ও গ্যাস আমদানির জন্য ঋণপত্রের বিপরীতে অর্থ পরিশোধের চাপ বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারেও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের ভারিত গড় বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা। আগের দিন এই হার ছিল ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা।
বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে বুধবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকারদের মতে, তেল ও গ্যাস আমদানির বিপরীতে অর্থ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই ডলারের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
বিভিন্ন ব্যাংকে ডলারের দরে পরিবর্তন
বৃহস্পতিবার ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি প্রতি ডলার তাৎক্ষণিক বিক্রির ক্ষেত্রে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা এবং কেনার ক্ষেত্রে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা দর নির্ধারণ করে। আগের দিনের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই দাম ৭ পয়সা বেড়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে প্রতি ডলারের তাৎক্ষণিক বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ২০ পয়সা। ব্যাংকটির কেনার দর ছিল ১২২ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে। এক সপ্তাহ আগেও এসব দর তুলনামূলক কম ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাজারে ডলারের প্রবাহ ও চাহিদার মধ্যে মোটামুটি ভারসাম্য রয়েছে। তবে মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমদানি ব্যয় পরিশোধ করায় ডলারের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। এতে বিনিময় হারের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়।
এ ছাড়া মাসের শেষ সময়ে প্রবাসী আয় আসার গতিও কিছুটা কমে যেতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান বাড়ে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাহিদা
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে দেশের আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি আমদানির খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে বেশি ডলারের প্রয়োজন হওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে।
রিজার্ভে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত
ডলারের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা থাকলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে গত ১৯ অক্টোবর দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৫৪ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৩৪ কোটি ডলার।
অন্যদিকে, খোলাবাজারেও ডলারের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার মানি চেঞ্জারগুলোতে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২৮ টাকায়। আর কেনার দর ছিল ১২৭ টাকা থেকে ১২৭ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয়, মাসের শেষ দিকে আমদানি দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় প্রবাহে সাময়িক ধীরগতি ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে।

