বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেফতার করে। পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এস কে সুরের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুদক অঢেল সম্পদের সন্ধান পায়। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা তার লকারেও অভিযান চালানো হয়।
এস কে সুরের লকার খোলার সময় দুদক জানতে পারে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের নামে রয়েছে ৫৩২টি বিশেষ লকার। অবৈধ সম্পদ লুকানোর সন্দেহে সংস্থাটি চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি এসব লকার অবরুদ্ধ করে। পরবর্তীতে লকার অভিযানকে ঘিরে দুদক একটি কর্মকর্তাকেও সরিয়ে দেয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসব বিশেষ লকারের সুবিধা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুদকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে লকারগুলো খোলার অনুমতি চায়। দুদক পাল্টা চিঠিতে জানায়, অবৈধ সম্পদ লুকানোর সুযোগ কমাতে এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানায়। তবে লকার খোলার সময় দুদক প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, ফজলে কবির, আব্দুর রউফ তালুকদারসহ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলছে। যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে, তাদের লকারও বন্ধ থাকবে। দুদক এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে রাজি হয়নি। সংস্থাটি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের যাদের নামে অনুসন্ধান বা মামলা চলছে, তাদের তালিকা প্রস্তুত করছে। অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হকের মতে, অবৈধ সম্পদের সুযোগ কমাতে এই সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী।

