দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক ২০২৫ সালে রেকর্ড মুনাফা করেছে। গত বছর শেষে ব্যাংকটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ২৩২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বছরের আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করা হয়। পরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে। একই সভায় ২০২৫ সালের জন্য মোট ২১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে ১৭ শতাংশ নগদ এবং ৪ শতাংশ বোনাস শেয়ার। ব্যাংকটির ইতিহাসে ২০১১ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা বলে জানা গেছে। সেই বছর ব্যাংকটি মোট ২৭ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে সতর্কভাবে ব্যাংক পরিচালনার কারণেই ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বা আগ্রাসী ব্যাংকিং না করায় আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আর্থিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের মুনাফার বড় অংশ এসেছে শেষ তিন মাসে। এই সময়েই প্রায় ৩০৩ কোটি টাকা আয় হয়, যেখানে প্রথম নয় মাসে মুনাফা ছিল ১৭৩ কোটি টাকা। ফলে বছরের শেষ ভাগে ব্যাংকের আয়ে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা যায়। গত এক দশকের মধ্যে এটি ব্যাংকটির সর্বোচ্চ মুনাফা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মুনাফা ও লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে ব্যাংকটি শীর্ষ অবস্থানের কাছাকাছি ছিল। দুপুর পর্যন্ত কোটি কোটি শেয়ার লেনদেন হয়, যার বাজারমূল্য ছিল কয়েক কোটি টাকা।
চাহিদা বৃদ্ধির কারণে শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এক দিনের ব্যবধানে শেয়ারমূল্য প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকটির এই রেকর্ড মুনাফা আর্থিক খাতে আস্থার ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ মান নিয়ন্ত্রণে আরও সতর্কতা প্রয়োজন হবে।

