Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, আগস্ট 2, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণের প্রায় অর্ধেকই খেলাপির খাতায়
    ব্যাংক

    ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণের প্রায় অর্ধেকই খেলাপির খাতায়

    মনিরুজ্জামানজানুয়ারি 20, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বাড়তি সুদহারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে দেশের ছোট ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর। তাই ধারণা করা হয়, এই পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের ঋণ খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

    তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ভিন্ন চিত্র দেখায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে ১ কোটি টাকার কম ঋণের মাত্র ১৬ শতাংশ খেলাপি। অন্যদিকে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের প্রায় অর্ধেকই খেলাপির তালিকায় রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের আকার অনুযায়ী খেলাপির হার তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বড় উদ্যোক্তারা ঋণ ফেরত না দেওয়ার একটি সংস্কৃতি তৈরি করেছেন।

    তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৪.৬ শতাংশ গত বছরের জুন শেষে খেলাপি ছিল। ছোট ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপির হার গড়ের অর্ধেকেরও কম। ১ কোটি টাকার পর্যন্ত ঋণের খেলাপির হার ছিল ১৬ শতাংশ। ১ থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ২৬.১ শতাংশ। ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার ঋণে প্রায় ৪৫.৭ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। তবে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার ঋণের খেলাপির হার কিছুটা কম, ৩৮ শতাংশ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার ঋণের খেলাপি ৪২.১ শতাংশ। ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ঋণে হার আরও বেড়ে ৪৫.৭ শতাংশ। সবচেয়ে বড় ঋণ হিসেবে বিবেচিত ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ৪৮.২ শতাংশই খেলাপি। অর্থাৎ বড় ঋণের খেলাপি গড়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ নিয়মিত ফেরত দেন। কিন্তু বড় উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করেছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের দেড় দশকের সময়কালে অনেক ঋণ লোপাট হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর বহু ব্যাংক লুটেরা দেশ থেকে পালিয়েছে বা কারাগারে রয়েছে। এ কারণেই বড় ঋণ বেশি খেলাপি হয়েছে। বিপরীতে ছোট উদ্যোক্তারা কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি সুদ হার সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ করছেন।

    দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) সবচেয়ে বেশি ঋণ দেয় ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার আড়াই শতাংশেরও কম। ছোট ঋণের খেলাপি মাত্র ১ শতাংশের ঘরে। ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওর ৫০ শতাংশই সিএমএসএমই খাতের। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই খুব ক্ষুদ্র ব্যবসায় দেয়া হয়েছে। এই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের হার সবচেয়ে ভালো। সঠিক ব্যক্তিকে বাছাই করলে ছোট ঋণ খেলাপি হওয়ার কথা নয়। আমরা দেখেছি, এই উদ্যোক্তারা ঋণ পরিশোধে উদগ্রীব।’

    ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তাদের কাছে ব্যাংক ঋণ পৌঁছানো সহজ কাজ নয়। ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলছেন, সফল হতে হলে দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক ও সশরীরে উপস্থিতি প্রয়োজন। তিনি জানান, ঋণ তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকৃত টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা ঘনিষ্ঠভাবে দেখা হয়।

    ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার ২০০ স্থায়ী কর্মী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এর বাইরে আরো সাড়ে তিন হাজারের বেশি কর্মী সহযোগিতা করছেন। এ কর্মী বাহিনীর বড় অংশই এসএমই খাতে নিয়োজিত। এই খাতে আয়-ব্যয় অনুপাত তুলনামূলক বেশি হলেও, এ নিয়োগ ও তত্ত্বাবধানই ব্র্যাক ব্যাংকের সাফল্যের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই এই খাতে বিনিয়োগে ভয় পেলেও, দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে খরচ কমে আসবে এবং মডেলটি লাভজনক হবে।

    বিপরীতে, দেশের অন্যান্য ব্যাংকও ক্ষুদ্র ঋণে পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২১ সালের শেষের দিকে সিটি ব্যাংক পিএলসি সিএমএসএমই ঋণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ চালু করে। জামানতবিহীন এ ঋণের নাম রাখা হয়েছে ‘ডিজিটাল ন্যানো লোন’। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র কয়েক ট্যাপে ৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যায়। ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ মেয়াদ তিন মাস।

    সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন জানান, এই অতিক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প বিপুল সাফল্য পেয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ডিজিটাল ন্যানো লোন বিতরণ হয়েছে। প্রতিটি ঋণের গড় স্থিতি মাত্র ৪ হাজার টাকা। দৈনিক ২৫ হাজারের বেশি গ্রাহক ঋণ গ্রহণ করছেন। একজন গ্রাহক গড়ে সাতবারের বেশি ঋণ সুবিধা নিয়েছেন।

    গত তিন মাসে গড় ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৫০ কোটি টাকা, যা চলতি মাসে বেড়ে ৫৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ৮০ লাখ গ্রাহক ঋণ পাওয়ার যোগ্য এবং এ পর্যন্ত ২১ লাখ গ্রাহক সুবিধা ভোগ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের কারণে ন্যানো লোনের স্থিতি মাত্র ৭১০ কোটি টাকা। ঋণটি পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের মধ্যেও জনপ্রিয়। খেলাপির হার মাত্র ০.৭ শতাংশ।

    দেশের ব্যাংক খাতের চরম দুর্দশার মধ্যেও সিটি ব্যাংক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, “ঋণের ক্ষেত্রে সঠিক গ্রাহক বাছাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত দেড় দশকে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক বিপর্যয়ের মধ্যেও আমরা করপোরেট সুশাসন মেনে চলেছি। সঠিক গ্রাহককে ঋণ দেয়ায় খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বড় গ্রাহক নয়, বরং সিএমএসএমই ও রিটেইল খাতকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”

    কিন্তু দেশের ব্যাংক খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি নাজুক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণকৃত ঋণের মোট স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা খেলাপি। অর্থাৎ বিতরণকৃত ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

    এই হার এখন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। তুলনা করলে দেখা যায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ২৬ শতাংশ। লেবাননে যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে, সেখানে খেলাপি ঋণের হার ২৪ শতাংশের নিচে। রাশিয়ায়, যেখানে প্রায় চার বছর ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে, খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৫.৫১ শতাংশ। যদিও ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ায় ঋণ খেলাপি বেশি ছিল।

    অন্যদিকে এক দশক আগে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া গ্রিসের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার এখন মাত্র ৩.৬ শতাংশ। আর উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও স্থানীয় মুদ্রার পতনের মুখে থাকা আর্জেন্টিনায় খেলাপি ঋণের হার ১.৬ শতাংশে নেমেছে, যেখানে শতাব্দীর শুরুতে এটি ২০ শতাংশের বেশি ছিল।

    বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও খ্যাতিমান গবেষণা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার এখন গোটা বিশ্বে সর্বোচ্চ। যুদ্ধবিধ্বস্ত, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দায় থাকা অন্যান্য দেশও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম হার দেখাচ্ছে।

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কেবল শ্রীলংকায় খেলাপি ঋণের হার ১২.৬ শতাংশ। তিন বছর আগে অর্থনৈতিক সংকটে পড়া ও নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করা দ্বীপরাষ্ট্রটি বর্তমানে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে।

    পাকিস্তানও দীর্ঘ সময় চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ছিল। বর্তমানে পাকিস্তানের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭.৪ শতাংশ। প্রতিবেশী ভারতের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ২.৩ শতাংশ, আর নেপালের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ৪.৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “অতীতে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ ‘কার্পেটের নিচে’ চাপা রাখত। অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ঋণ খেলাপি দেখানো হতো না। গত এক বছরে সেই চাপা রাখা ঋণ প্রকাশ হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেষ্টা ছিল ব্যাংকগুলোর প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন করা, এবং এখন আমরা প্রকৃত চিত্র জানতে পেরেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রকৃত উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সবসময় ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেন। সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তারা এ ক্ষেত্রে সবসময় এগিয়ে থাকেন। গত কয়েক বছর থেকে আমরা ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছি। যদিও এতদিন তা খুব কার্যকর হয়নি, তবে গত বছর থেকে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। আশা করছি, আগামী বছরগুলোতে সিএমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।”

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক ঋণের বড় অংশ শিল্প ও ব্যবসা খাতে কেন্দ্রীভূত। তবে খেলাপি ঋণের সংখ্যাও প্রধানত এ দুই খাতেই বেশি। ২০২৫ সালের জুন শেষে বিতরণকৃত ঋণের দিক দিয়ে ব্যবসা ও বাণিজ্য খাত ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে (৩৩.২ শতাংশ)। কিন্তু খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে, যেখানে হার ৪৪.৭ শতাংশ।

    শিল্প খাত দেশের সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতা। মোট ঋণের ৪২ শতাংশ এ খাতে বিতরণ করা হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণের হার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ৩৫.৯ শতাংশ। কৃষি, মৎস্য ও বনজ খাতে মোট ঋণের মাত্র ৪.৩ শতাংশ বিতরণ করা হলেও খেলাপি ঋণ ৩১.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণ খাতে মোট ঋণের অংশ ৭ শতাংশ হলেও খেলাপি ঋণ ২৭.৭ শতাংশ। ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রেও খেলাপির হার ৯.৪ শতাংশ, যেখানে মোট ঋণের ১০ শতাংশ বিতরণ হয়েছে। পরিবহন খাতে ঋণের পরিমাণ খুবই কম, মাত্র ০.৬ শতাংশ। তবে খেলাপি হার এখানে ২২.৭ শতাংশ। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও বিবিধ খাতে মোট ৩ শতাংশের মতো ঋণ বিতরণ হয়েছে। এ দুই খাতের খেলাপি ঋণের হার যথাক্রমে ১২ ও ১১.৩ শতাংশ।

    খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে ছোট ঋণগ্রহীতাদের অবদান কম হলেও, ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নানা ধরনের কাগজপত্র জোগান দিতে এবং নিয়ম-নীতির কঠোরতা মেনে চলতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বেশি সময় ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই কারণে তারা প্রয়োজনীয় ঋণ থেকে বঞ্চিত হন।

    এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণ আদায়ের হার ৯৮-৯৯ শতাংশ। কিন্তু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানরা জামানত দিতে পারবে কিনা, ঋণ শোধ করতে পারবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ করে। প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে মাত্র ৫-১০ লাখ টাকার ঋণের অভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেমে যায়। নারী উদ্যোক্তাদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। তবে অনেক ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তারা তা জানেনই না, বা না জানার ভান করেন।”

    তিনি আরও জানান, বড় আকারের ঋণগ্রহীতার সংখ্যা কম হলেও ছোট ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেশি। দেশের মোট শিল্পের ৯৮ শতাংশই এসএমই খাতে, আর শিল্প খাতের ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানও এসএমই খাতের। বিবিএসের জরিপ অনুসারে দেশে ১ কোটি ১৮ লাখ এসএমই ইউনিটে ৩ কোটি ৭ লাখ মানুষ কাজ করছেন। অথচ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই খাতে ঋণ বিতরণে এখনো অনীহা দেখাচ্ছে।

    ব্যাংকের বড় ঋণ শিল্প ও ব্যবসা খাতে কেন্দ্রীভূত হলেও খেলাপি ঋণও বেশি। বিপরীতে ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তারা ঋণ আদায়ে দায়বদ্ধ, কিন্তু তাদের কাছে ঋণ পৌঁছানো এখনও চ্যালেঞ্জ। সঠিক তত্ত্বাবধান ও নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি করাই দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ব্যাংক

    এক বছরে ব্যাংকে জমা বেড়েছে ২.৩৪ লাখ কোটি টাকা

    আগস্ট 1, 2026
    প্রযুক্তি

    মহাকাশ গবেষণায় প্রযুক্তির আড়ালে কী চলছে? সত্য, বিজ্ঞান ও বিকল্প তত্ত্বের সংঘাত

    আগস্ট 1, 2026
    বাংলাদেশ

    এক থানায় ১৫জন পুলিশ হত্যার আড়াই বছর: কী ঘটেছিল, কোথায় দাঁড়িয়ে তদন্ত?

    আগস্ট 1, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.