বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের মানচিত্রে এক নতুন পরিবর্তন দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়ে যাওয়াই এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তবে এখনো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন এখনও স্থায়ী রূপ নিয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের ১৭.৮২ শতাংশই হয়েছে চীনের সঙ্গে। ফলে দেশটি এখনো সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ৯.২৮ শতাংশে পৌঁছে ভারতের ওপরে উঠে এসেছে। ভারতের অংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ৭.৯১ শতাংশে, যার ফলে দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। মূল্যমানের হিসেবে ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য ছিল প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার (১২,২৯৭ কোটি টাকা)। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.০২ বিলিয়ন ডলার (১২,৫০৮ কোটি টাকা)। একই সময়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য দাঁড়ায় প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার (২৮,১৯৪ কোটি টাকা)। বিনিময় হার ধরা হয়েছে প্রতি ডলার ১২২.৯৭ টাকা।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার প্রবণতা বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্যে পরিবর্তন আনছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)সহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ক্রমেই বাড়ছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও তুলা খাতে আরও আমদানির সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি তুলা নীতি চালু করেছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করলে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। জায়েদি সাত্তারের ভাষায়, বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করে, তাহলে সমপরিমাণ মূল্যের পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা সাধারণত মেশিনে সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তানের তুলা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাতে তোলা।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও মাসরুর রিয়াজ বলেন, এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। কারণ এটি পশ্চিমা অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আমদানির উৎসও বৈচিত্র্যময় করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ভালো। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে—বিশেষ করে পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে—বাণিজ্য সুবিধা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

