পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯৭ শতাংশের বেশি কারখানায় ইতোমধ্যে ঈদের বোনাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মে মাসের অগ্রিম বেতনও পরিশোধ করেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা।
বিজিএমইএর তথ্যে জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে উৎপাদনে থাকা সদস্য কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১২৭টি। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে রয়েছে ১ হাজার ৭৯৪টি এবং চট্টগ্রামে ৩৪০টি কারখানা।
গতকাল পর্যন্ত এপ্রিল মাসের বেতন শতভাগ কারখানায় পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মে মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে ১ হাজার ২৪৩টি কারখানা। অন্যদিকে ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ২ হাজার ৮০টি কারখানা, যা মোট কারখানার প্রায় ৯৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
ঢাকা অঞ্চলের কারখানাগুলোর মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি কারখানায় বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু কারখানায় এখনও বোনাস ও অগ্রিম বেতন বাকি রয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলেও অধিকাংশ কারখানায় এপ্রিলের বেতন দেওয়া হলেও বোনাস ও অগ্রিম বেতন পরিশোধে কিছু কারখানা পিছিয়ে আছে।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে কয়েক বছর ধরেই ধাপে ধাপে পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। এর ফলে একদিনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়ে সড়ক ও মহাসড়কে যানজট কমানোর চেষ্টা করা হয়।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রোববার থেকে পোশাক কারখানাগুলোতে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। ওই দিন ১০৮টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। সোমবার ছুটি শুরু হয় ৬৬৪টি কারখানায়। আজ মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কারখানায় ছুটি শুরু হচ্ছে। এদিন ৭৭১টি কারখানা বন্ধ হচ্ছে ঈদের ছুটিতে। বাকি ২৫১টি কারখানায় বুধবার বেতন-বোনাস পরিশোধের পর ছুটি ঘোষণা করা হবে।
সাধারণত ঈদ উপলক্ষে পোশাক কারখানাগুলোতে ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটি দেওয়া হয়ে থাকে। শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতেই এই ধাপে ধাপে ছুটির ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।

