দেশের ইস্পাত শিল্পে নতুন করে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে প্রতি টন রডের দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, বন্দর মাশুলসহ বিভিন্ন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অন্যান্য খরচের চাপ শিল্প খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রডের উৎপাদন খরচ গড়ে প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ টাকা বাড়তে পারে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম, বন্দরের মাশুল ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হলে মোট বৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ টাকার কাছাকাছি।
তারা জানান, বর্তমান বাজারে এই অতিরিক্ত ব্যয় পুরোপুরি ভোক্তাদের ওপর চাপানো সম্ভব নয়। ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় অংশের ব্যয় নিজেরাই বহন করতে হবে, যা শিল্পের জন্য টেকসই নয় বলে মনে করছেন তারা।
সংগঠনের নেতারা বলেন, ইস্পাত খাত বর্তমানে একাধিক সংকটে রয়েছে। নির্মাণ খাতে মন্দা, উচ্চ সুদের হার, ডলারের সংকট, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের চাপ শিল্পকে আরও দুর্বল করছে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০টি আধুনিক স্টিল মিল এবং ১৫০টির বেশি রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় এক কোটি ২২ লাখ টন হলেও বাস্তবে চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টনের মতো হওয়ায় অনেক কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাটসহ নানা খরচ উৎপাদন খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এসব কাঠামোগত সমস্যা সমাধান না করে খরচ বাড়ানো হলে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও কমে যাবে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উৎপাদন খাতকে টিকিয়ে রাখতে বিদ্যুৎ খাতের নীতিগত পুনর্বিবেচনা জরুরি। না হলে বিনিয়োগ কমবে, উৎপাদন কমে যাবে এবং কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।
অন্যদিকে মহাসচিব সুমন চৌধুরী বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের মতো ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না করলে অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদে চাপ বাড়বে। সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। চলতি মাসে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর থেকেই শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

