চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার রাজস্ব অনিয়মের তথ্য সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভ্যাট কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও আর্থিক নথিপত্র যাচাই করতে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সংগ্রহ করা নথি ও হিসাবপত্র বিশ্লেষণের পর কর ফাঁকির একাধিক তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে অন্তত ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রাজস্ব বিভাগ। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে চলমান অডিট শেষ হলে অনিয়মের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজস্ব কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির ১৬টি কার্যালয় ও হাব কার্যক্রম পরিচালনা করলেও দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো প্রয়োজনীয় ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া পরিচালিত হয়েছে। একাধিকবার নোটিশ ও চিঠি পাঠানোর পরও যথাযথ সাড়া না পাওয়ায় চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটিকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির অতীত লেনদেন, সেবা কার্যক্রম এবং রাজস্ব পরিশোধের তথ্য যাচাই শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ায়ই বিভিন্ন অসঙ্গতি সামনে আসে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক নথি নিয়ে বিস্তারিত অডিট কার্যক্রমও চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, চট্টগ্রামে পাওয়া অনিয়মের পরিমাণই যদি এত বড় হয়, তাহলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের অনিয়ম থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ প্রতিষ্ঠানটির রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত কার্যক্রম রয়েছে। এ কারণে অনুসন্ধানের পরিধি চট্টগ্রামের বাইরে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন শুধু একটি অঞ্চলের কার্যক্রম নয়, বরং সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক লেনদেন, ভ্যাট পরিশোধের রেকর্ড এবং নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য শাখার হিসাবও অডিটের আওতায় আনা হবে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-কমার্স ও কুরিয়ার খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো কর-অনুবর্তিতার ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিয়ম মেনে চলছে না। ফলে রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সরকার একদিকে রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে, অন্যদিকে ব্যবসায়িক খাতে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশও বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কুরিয়ার ও লজিস্টিকস খাত বর্তমানে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তাই এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও কর পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
এদিকে মামলার পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ। অডিট ও অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কর আদায়, জরিমানা কিংবা আরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

