বিআরটিএর আদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ট্রাফিক জরিমানার নামে সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্রকে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিআইডি মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ভুয়া ওয়েবসাইট ও মেসেজিং সিস্টেম ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা বা মামলা হয়েছে—এ ধরনের ভয় দেখিয়ে মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠানো হতো।
বার্তায় থাকা লিংকে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীদের সামনে বিআরটিএর মতো দেখতে একটি ওয়েবপেজ খুলত, যেখানে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া থাকত। দ্রুত পরিশোধ করলে ছাড় পাওয়া যাবে—এমন প্রলোভনও দেখানো হতো। এতে অনেকেই সেটিকে সরকারি সাইট ভেবে বিশ্বাস করে ফেলতেন।
এরপর ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ব্যাংক কার্ডের তথ্য, অনলাইন ব্যাংকিং লগইন, এমনকি এককালীন পাসওয়ার্ডও (ওটিপি) সংগ্রহ করা হতো। এসব তথ্য ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হতো।
এক ঘটনায় এক ব্যক্তি মেসেজ পেয়ে নিজের অফিসের গাড়ির নামে ট্রাফিক জরিমানা দেখেন এবং সেটি কমিয়ে দ্রুত পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। পরে তিনি পেমেন্ট করতে গিয়ে স্ত্রীর ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংকিং তথ্য প্রদান করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হিসাব থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানিয়েছে, একই কৌশলে অন্তত কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ট্রাফিক জরিমানা ও মামলা সংক্রান্ত বার্তা পাঠিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে খুলনা, ফেনী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সংস্থাটি বলছে, বর্তমানে সাইবার অপরাধীরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। তাই কোনো ধরনের জরিমানা, মামলা বা অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত বার্তা এলে তা যাচাই না করে কোনো লিংকে প্রবেশ বা তথ্য প্রদান করা উচিত নয়।
সিআইডি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, অপরিচিত ওয়েবসাইটে ব্যাংক কার্ড নম্বর, পিন, ওটিপি বা লগইন তথ্য দিলে সহজেই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। এ ধরনের প্রতারণা রোধে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

