বাংলাদেশে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পাওয়া পণ্যের সংখ্যা বর্তমানে ৬৪-তে পৌঁছেছে। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গতকাল সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহনকারী পণ্যগুলো জিআই নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি জানান, নিবন্ধিত জিআই পণ্যের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র, কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য, হস্তশিল্প এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক নানা সামগ্রী। এসব পণ্য দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক পরিচয়কে তুলে ধরে।
বর্তমানে জিআই স্বীকৃতি পাওয়া পণ্যের তালিকায় রয়েছে জামদানি শাড়ি, বাংলাদেশের ইলিশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম, নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদামাটি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, বাংলাদেশের কালিজিরা চাল, রংপুরের শতরঞ্জি, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম, শেরপুরের তুলশীমালা চাল, বাংলাদেশের শীতলপাটি, বগুড়ার দই, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম এবং আশ্বিনা আম।
এ ছাড়া জিআই তালিকায় স্থান পেয়েছে নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, কুমিল্লার রসমালাই, কুষ্টিয়ার তিলের খাজা, রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আম, মৌলভীবাজারের আগর ও আগর আতর, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মণ্ডা, যশোরের খেজুরের গুড়, নরসিংদীর অমৃতসাগর কলা, রাজশাহীর মিষ্টি পান, গোপালগঞ্জের রসগোল্লা, জামালপুরের নকশিকাঁথা, টাঙ্গাইল শাড়ি, নরসিংদীর লটকন, টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস, ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই এবং মাগুরার হাজরাপুরি লিচু।
শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, জিআই স্বীকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে সিলেটের মণিপুরি শাড়ি, সিরাজগঞ্জের গামছা, মিরপুরের কাতান শাড়ি, ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলা, কুমিল্লার খাদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী, গোপালগঞ্জের কাঁসার গহনা, সুন্দরবনের মধু, শেরপুরের ছানার পায়েশ, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি, গাজীপুরের কাঁঠাল, কিশোরগঞ্জের রাতাবোরো ধান, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের চিজ, বরিশালের আমড়া, কুমারখালীর বেডশিট, দিনাজপুরের বেদানা লিচু, মুন্সীগঞ্জের পাটক্ষীর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কি সন্দেশ এবং নওগাঁর নাক ফজলি আম।
এ তালিকায় আরও রয়েছে ঢাকাই ফুটি কার্পাসের বীজ ও গাছ, মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা, নেত্রকোনার বালিশগঞ্জ মিষ্টি, ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি, মেহেরপুরের হিমসাগর আম, ফরিদপুরের পাট, মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি, কালীগঞ্জের গামছা, জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু এবং মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়।

