স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে দেশের বর্তমান ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় ভবিষ্যতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপন উপলক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিবও এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণের তথ্য তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেছে। তবে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতিকে আরও উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাওয়াই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্য অর্জনে শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত অভিযোজনকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
তার মতে, সম্ভাবনাময় শিল্পখাতগুলোকে সুপরিকল্পিত নীতিগত সহায়তা, গবেষণা কার্যক্রম এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া গেলে দেশের রপ্তানি আয় তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চামড়া, পাটভিত্তিক শিল্প এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে তিনি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চামড়া ও হালকা প্রকৌশল খাতে বিদ্যমান অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্র পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পাশাপাশি কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে অধিক মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুটভিত্তিক কাপড় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ খাতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতাকে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতাও বাড়াতে হবে।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতায় দেশের রপ্তানি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতা, মতামত ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সরল করার মাধ্যমে টেকসই ও কার্যকর রপ্তানি উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং সম্ভাব্য বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। এছাড়া বক্তব্য দেন এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস সুমি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

