চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর শাখার লক করা বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) ঘিরে আলোচিত ২৫০টি পণ্য চালানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।
বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তর থেকে গতকাল কাস্টমসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ গত বছরের ২ ডিসেম্বর এ-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পত্র পাঠানোর পর তার জবাব হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদন সরবরাহ করেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি বিল অব এন্ট্রি মিলিয়ে মোট ২৫০টি পণ্য চালান এখনো লক অবস্থায় রয়েছে।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমসের দেওয়া তালিকায় ২৫০টি চালানের কথা উল্লেখ থাকলেও যাচাইয়ে প্রকৃত চালানের সংখ্যা পাওয়া গেছে ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি চালানে রয়েছে ২৯৩টি এফসিএল (ফুল কনটেইনার লোড) কনটেইনার। বাকি ৮৩টি চালান এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) কার্গো হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এফসিএল কনটেইনারগুলোর বর্তমান অবস্থানও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কাস্টমসের আউটপাসের মাধ্যমে ৮৮টি কনটেইনার ইতোমধ্যে বন্দর থেকে খালাস হয়েছে। আরও ৭০টি কনটেইনার বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে ১৩১টি কনটেইনার। এছাড়া সরবরাহ করা তালিকায় চারটি কনটেইনার নম্বর ভুল পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ৮৩টি এলসিএল পণ্য চালানের মধ্যে আটটি চালান কাস্টমসের আউটপাসের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সিএফএস ও শেডে সংরক্ষিত রয়েছে আরও ৩৫টি চালান। বন্দর কর্তৃপক্ষের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমসের সরবরাহ করা তালিকায় ৪০টি বিল অব লেডিং (বি/এল) নম্বরেও অসঙ্গতি রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, কাস্টমসের দেওয়া লক করা পণ্য চালানের তালিকা পর্যালোচনা করে প্রকৃত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে ভুল তথ্যও ছড়ানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

