দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে জনবল ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের নজির স্থাপন করেছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে গত দুই বছরে সংস্থাটি আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দুই বছরে সরাসরি নিয়োগ পেয়েছেন ২০৮ জন। একই সময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪৬৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন বছরে সরাসরি নিয়োগ হয়েছিল ১৪৪ জনের। অথচ পরবর্তী মাত্র দুই বছরেই নিয়োগের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৮ জনে। অর্থাৎ আগের প্রায় সাড়ে তিন বছরের তুলনায় এই সময়ে নিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি।
পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়েছিলেন ৭৯৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী দুই বছরে পদোন্নতি পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।
বছরভিত্তিক নিয়োগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৩৪ জন, ২০২২ সালে ৯২ জন, ২০২৩ সালে ৬ জন, ২০২৪ সালে ৭ জন, ২০২৫ সালে ১৯৩ জন এবং ২০২৬ সালে ২০ জন সরাসরি নিয়োগ পেয়েছেন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর নিয়োগ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য গতি আসে। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২১ সালে ৩০১ জন, ২০২২ সালে ৯৬ জন, ২০২৩ সালে ৪১১ জন, ২০২৪ সালে ৯০ জন, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪১ জন এবং ২০২৬ সালে ২২৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি লাভ করেন।
বন্দর সূত্র জানায়, প্রশাসনিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে কার্যক্রমের গতি ও পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলাই বন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য। তার ভাষ্য, দক্ষ ও যোগ্য জনবল একটি আধুনিক বন্দরের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করায় কর্মীদের কর্মস্পৃহা বেড়েছে, যা বন্দরের সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। তাই সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাবে।

