চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে নতুন ঋণ বিতরণ এবং ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতেও বলা হয়েছে।
সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে দেশের সব ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। এমআরএ জানায়, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার অসংখ্য মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। সরকারের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উদ্বৃত্ত তহবিল থেকে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে পারে। পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ায় অনেক ঋণগ্রহীতার পক্ষে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সক্ষমতা বিবেচনায় ঋণের কিস্তি আদায় আপাতত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত দুর্যোগকালীন নতুন ঋণ বিতরণ এবং কোনো সদস্য সঞ্চয়ের অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এমআরএ আরও জানিয়েছে, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যে ব্যয় হবে, তার অনুমোদনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যয়নসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র এক মাসের মধ্যে সংস্থাটিতে জমা দিতে হবে।

