দেশে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাদ্যশস্য আমদানি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে চাল ও গমের মোট আমদানি হয়েছে ৮৬ লাখ টন, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামের সুযোগে বিশেষ করে গম আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে বিপুল আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ভোক্তা পর্যায়ে চাল ও আটার দাম কমেনি।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ৮৬ লাখ টন। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভয়াবহ বন্যার কারণে রেকর্ড ৯৭ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল।
সরকারি তথ্য বলছে, এবার চাল আমদানি প্রায় আগের বছরের সমপর্যায়ে থাকলেও গম আমদানি ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৭৭ লাখ টনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল দামের কারণে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি আমদানিকারকরাও বেশি পরিমাণে গম কিনেছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভালো অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, নিয়মিত আমদানি এবং সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমের কারণে দেশে খাদ্যশস্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে সরকারি খাদ্য মজুত প্রায় ২০ লাখ টন, যা চলমান বোরো সংগ্রহ শেষ হলে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে খাদ্যশস্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু গম আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে ১৯৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম টনপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ ডলার এবং চালের দাম ৩৮০ থেকে ৪৫০ ডলারের মধ্যে থাকায় আমদানিকারকরা সুবিধাজনক দামে মজুত গড়ে তুলতে পেরেছেন। মোট খাদ্যশস্য আমদানির ১৫ শতাংশের বেশি করেছে সরকার।
তবে বিপুল আমদানি সত্ত্বেও এর সুফল পাননি সাধারণ ভোক্তারা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ১২ থেকে ১৬ শতাংশ কমলেও দেশের বাজারে সেই প্রভাব পড়েনি।
বর্তমানে খোলা আটা কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে মোটা ও মাঝারি মানের চালের দাম কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা এবং উন্নত মানের চাল ৭৫ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনুকূল পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে আমদানি বাড়ানো সম্ভব হলেও, সেই সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

