খুলনা অঞ্চলে পাট, চিনি, জাহাজ নির্মাণ এবং হিমাগারভিত্তিক শিল্প স্থাপনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, সুন্দরবনের সংবেদনশীল পরিবেশ বিবেচনায় রেখে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে এই অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার খুলনার হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শিল্প জরিপ’ বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় এসব মতামত উঠে আসে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিডার মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক। বিডার নেতৃত্বে পরিচালিত এই শিল্প জরিপের অর্থায়ন করছে এডিবি এবং কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সানেম।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, জরিপটির মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীরা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যভিত্তিক সুপারিশ তৈরি করা। পাশাপাশি একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হবে, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরকারের নীতি প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এডিবি বাংলাদেশের পাবলিক সেক্টর ইকোনমিস্ট তাসনিম আলম বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি।
আচিয়া সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশও সেই গতির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষের ভোগ বাড়লেও উৎপাদন ও সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি। ফলে চাহিদা পূরণে নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সিফাত মেহনাজ বলেন, দেশের জনসংখ্যা বেশি হলেও জমির পরিমাণ সীমিত। তাই ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, দেশে উৎপাদিত রপ্তানিযোগ্য ফলের প্রায় ৩০ শতাংশ সংরক্ষণব্যবস্থার অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ করা গেলে এই অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে বিডার মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক বলেন, অনেক সময় খণ্ডিত তথ্যের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করতে হয়। চলমান শিল্প জরিপ সম্পন্ন হলে বিনিয়োগ পরিস্থিতির একটি বাস্তব ও সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে সরকার আরও কার্যকর নীতি প্রণয়ন করতে পারবে এবং দেশে প্রকৃত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ অবশ্যই প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে হতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আগে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে সেটিই ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

