পাট স্লাইভার রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)। সংগঠনটির অভিযোগ, কিছু মিল মালিক কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এড়িয়ে যেতে পাট স্লাইভার রপ্তানি করছেন এবং এ পণ্যের বিপরীতে ১০ শতাংশ সরকারি নগদ প্রণোদনা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে বিজেএর চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে কাঁচা পাট রপ্তানি কার্যত সীমিত করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও কিছু পাটকল মালিক বড় পরিমাণে পাট স্লাইভার বিদেশে পাঠাচ্ছেন এবং এমন একটি প্রণোদনা দাবি করছেন, যা অন্য ধরনের পাটপণ্যের জন্য নির্ধারিত।
সংগঠনটির দাবি, পাট স্লাইভার মূলত একটি শিল্পের কাঁচামাল, যা বিদেশে নিয়ে সুতা ও অন্যান্য পাটজাত পণ্য তৈরি করা হয়। এটি কোনো উচ্চমূল্যের বহুমুখী পাটপণ্য নয়। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কমপক্ষে ৫০ শতাংশ পাটসমৃদ্ধ বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেই ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পাওয়ার কথা।
বিজেএ জানিয়েছে, পাট স্লাইভারের জন্য আলাদা কোনো এইচএস কোড নেই। ফলে এটি ‘জুট ডাইভারসিফায়েড প্রোডাক্ট’ বা বহুমুখী পাটপণ্যের আওতায় পড়ে না। তারপরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই পণ্যের রপ্তানিতে প্রণোদনা সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনও একই ধরনের দাবি জানিয়ে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছিল। বিজেএর অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে কিছু মিল মালিক পাটের বাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছেন। এতে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং দেশের পাট খাত ক্ষতির মুখে পড়ছে।
কাঁচা পাটের সরবরাহ নিশ্চিত করা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ সংশোধন করে কাঁচা পাটকে ‘শর্তযুক্ত রপ্তানি’ তালিকায় যুক্ত করে। এর ফলে কাঁচা পাট রপ্তানির আগে সরকারের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।
তখন পাটকল মালিকরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা এর বিরোধিতা করে দাবি করেন, সরবরাহ সংকট সমাধান না করে রপ্তানি সীমিত করলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তারা ন্যায্য দাম পাবেন না। দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩ হাজার টন কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি দেয়।

