বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে টেকসই উন্নয়নকে (সাসটেইনেবিলিটি) রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের (বিবিএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নকে শুধু বছরে একবারের আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটি প্রতিটি ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করতে হবে।
শরীফুল ইসলামের ভাষ্য, দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনা এখন আর কোনো বিকল্প বিষয় নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার অন্যতম ভিত্তি। ব্যবসাকে শুধু নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব প্রভাব তৈরির দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত ‘সাসটেইনেবিলিটি সামিট ২০২৬’-এ তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম (বিবিএফ) ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতা, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন দিক।
সম্মেলনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স: মোবিলাইজিং ক্যাপিটাল ফর বাংলাদেশ’স গ্রিন ট্রানজিশন’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি দেশের কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে পুঁজিবাজার ও সবুজ অর্থায়নের ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘দ্য নেক্সট ইভোলিউশন অব ক্যাপিটালিজম: বিজনেস, ব্র্যান্ডস অ্যান্ড সাসটেইনেবল ভ্যালু ক্রিয়েশন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন মার্কেটিং বিষয়ে খ্যাতিমান লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের ইমেরিটাস অধ্যাপক ফিলিপ কটলার এবং কানাডার রেসইন্ট সাসটেইনেবিলিটি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট খালিদ হাসান।
হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রামণ ঝা ‘হোয়াই সাসটেইনেবিলিটি ইজ দ্য নিউ গ্রোথ ইম্পেরেটিভ’ শীর্ষক বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা এম মাসরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের (স্বপ্ন) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির, বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদ্যা অমৃত খান, ডিবিএল গ্রুপের প্রধান টেকসই কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদউল্লাহ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক কে এ এম মোরশেদ এবং ইউনেস্কো চেয়ার অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুন নবী।

