বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এখন একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে সংকট ও স্বস্তির দুটি চিত্র। একদিকে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় উৎপাদন খাতে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে রফতানি আয়ও প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। এর ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে।
তবে এই চাপ অনেকটাই সামাল দিয়েছে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয়। বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য রাখতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতেও সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস, ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদন এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের এমন চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের আস্থার সংকটের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরছে না।
আমদানি দায় পরিশোধে স্থবিরতা:
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে আমদানি দায় পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৭০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি দায় পরিশোধ বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচিত এই পরিসংখ্যান বলছে, দেশের উৎপাদন খাত এখনও আগের গতি ফিরে পায়নি। তবে ভবিষ্যতের আমদানির ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক সংকেতও রয়েছে। একই সময়ে নতুন এলসি খোলার পরিমাণ ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এলসি বৃদ্ধির অর্থ হলো আমদানি চাহিদায় কিছুটা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সতর্ক অবস্থান এখনো কাটেনি।
কমছে শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি:
বৈদেশিক বাণিজ্যের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক দেখা যাচ্ছে শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর পরিমাণ নেমে এসেছে ২৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে।
একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ খাতে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ভোগ্যপণ্য ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও প্রায় ৭ শতাংশ করে কমেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাওয়ার অর্থ হলো নতুন বিনিয়োগে গতি কমছে। পাশাপাশি শিল্প সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্বালানি আমদানিতে উল্টো চিত্র:
তবে প্রধান আমদানি খাতগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল জ্বালানি। পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। এই খাতে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি দেশের বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার প্রতিফলন। তবে উৎপাদনমুখী খাতে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি না বাড়লে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আমদানি কমার পাশাপাশি রফতানিতেও প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি না থাকায় দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। তবে প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক লেনদেনের চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে স্বস্তি এসেছে এবং রিজার্ভও শক্তিশালী হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থায়ী ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হলে শিল্প উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
দেশের আমদানি কমে যাওয়ার পেছনে শিল্প উৎপাদনে ধীরগতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে, আবার কিছু কারখানা চলছে সীমিত সক্ষমতায়।
নাসা গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ ও গাজী গ্রুপসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমে সংকোচন দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অনেক কারখানা বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নতুন করে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির প্রয়োজনীয়তাও কমে গেছে। এর পাশাপাশি উচ্চ সুদের হার, ব্যাংকঋণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। ফলে উৎপাদন সম্প্রসারণে গতি ফিরছে না।
রফতানি আয়ে নেই প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি:
আমদানি কমার প্রভাব পড়েছে দেশের রফতানি খাতেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রফতানি হয়েছে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। এ অর্থবছরে সরকার ৫৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।
দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। মোট রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
রফতানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক, ইউরোপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রফতানি প্রত্যাশিত গতি পায়নি। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রফতানিতে প্রায় ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে মূলত বেশি কর্মদিবসের প্রভাব রয়েছে। এটি নতুন বাজার সম্প্রসারণ বা চাহিদা বৃদ্ধির বড় কোনো ইঙ্গিত নয়।
বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি:
আমদানি ও রফতানির ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাণিজ্য ঘাটতিও বড় হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে পণ্য আমদানি হয়েছে ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের। একই সময়ে রফতানি আয় এসেছে ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার।
এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে বৈদেশিক খাতে চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে রফতানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে আমদানি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
রেমিট্যান্সে মিলেছে বড় স্বস্তি:
বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ থাকলেও প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় পেয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমেছে। একই সঙ্গে আর্থিক হিসাবে ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয় না বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য আরও বড় চাপে পড়ত।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও শুধু প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক খাতকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী রাখা সম্ভব নয়। এজন্য উৎপাদন বাড়ানো, রফতানি বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বৈদেশিক বাণিজ্যে গতি ফেরাতে সরকার দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এফটিজেডে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিমালা জারি করেছে। নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীরা চালানভিত্তিক পদ্ধতিতে এলসি ছাড়াই কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন। পাশাপাশি শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পুনরায় প্যাকেটজাতকরণ, লেবেল পরিবর্তন এবং পুনঃরফতানির সুযোগ থাকবে।
ব্যবসায়ীদের আশা, এ ব্যবস্থায় উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত হবে, কার্যকর মূলধনের চাপ কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, রফতানি শুধু বৈশ্বিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে না। দেশের উৎপাদন সক্ষমতা, কাঁচামালের সরবরাহ, জ্বালানি, লজিস্টিকস ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ পরিবেশও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও রফতানির জন্য সতর্ক সংকেত। কারণ আজ বিনিয়োগ কমলে এর প্রভাব কয়েক মাস পর উৎপাদন ও রফতানিতে দেখা যায়।
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা এখন অনেক বেশি। ভিয়েতনাম, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পথে রয়েছে। তাই উৎপাদন ব্যয় কমানো, বন্দর ও লজিস্টিকস উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং দ্রুত বাণিজ্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ফ্রি ট্রেড জোনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে এর সুফল পেতে হলে দ্রুত বাস্তবায়ন, কার্যকর কাস্টমস সেবা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা ও নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো। এজন্য ব্যবসার ব্যয় কমানো, বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির কারণে আগামী দিনের বৈদেশিক বাণিজ্য পরিবেশ আরও কঠিন হতে পারে।
তার মতে, বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো, লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করা, বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করা, রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের দিকে এগোতে হবে।
পোশাক খাতের উদ্যোক্তারাও মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং অবকাঠামোগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। তাদের মতে, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং লজিস্টিকস খাতে দক্ষতা বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু আমদানি বা রফতানির একটি সূচক দিয়ে দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। তাদের মতে, শিল্পে বিনিয়োগ কমলে তার প্রভাব কিছু সময় পর উৎপাদন ও রফতানিতে দেখা যায়। আবার রফতানি দুর্বল হলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ে।
বর্তমানে প্রবাসী আয় বৈদেশিক খাতে বড় ধরনের স্বস্তি দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। টেকসই সমাধানের জন্য উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্প সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, রফতানি পণ্য ও বাজারে বৈচিত্র্য আনা এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা না গেলে বৈদেশিক বাণিজ্যের বর্তমান চাপ আগামী বছরগুলোতেও দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

