উৎসে কর কর্তন ও জমা কার্যক্রমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদারকি জোরদারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, এ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা, ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, কর আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা বা কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল থাকতে হবে। নিয়মিত কর পরিশোধকারী ও বিধিবিধান অনুসরণকারী কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেন অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, হয়রানি বা প্রশাসনিক চাপের মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এর আগে রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন ও জমা কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে কর কর্মকর্তারা প্রয়োজনে যেকোনো ব্যবসায়িক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, ব্যবসা কেন্দ্র কিংবা অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এমন স্থানে প্রবেশ করে সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, পরিদর্শনের সময় কর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, রসিদ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণীসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করতে পারবেন। প্রয়োজনে এসব নথি তলব করারও ক্ষমতা থাকবে তাদের।
শুধু প্রচলিত কাগজপত্র নয়, ডিজিটাল তথ্যও এই তদারকির আওতায় থাকবে। কর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ইলেকট্রনিক রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙে তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতাও তাদের থাকবে বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, কর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩–এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এনবিআরের এই উদ্যোগের পর ডিসিসিআই বলেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো শতভাগ কর-অনুগত্য নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদেরও প্রয়োজনীয় সময় ও সহযোগিতা দেওয়া উচিত। হঠাৎ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম মেনে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করলে কর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনের মতে, সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পূরণ এবং করজাল সম্প্রসারণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর কর প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি। কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো গেলে হয়রানি কমবে, সেবার মান বাড়বে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে।
ডিসিসিআই আরও মনে করে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ—এই দুই লক্ষ্য একে অপরের পরিপূরক। তাই এনবিআর, সরকার এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত ও গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সব শ্রেণির ব্যবসায়ীকে কর-অনুগত্যে উৎসাহিত করতে সচেতনতা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং বাস্তবসম্মত নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করারও বিকল্প নেই।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, কর প্রশাসনের নজরদারি কার্যক্রম আইনানুগ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হলে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় বাড়বে, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশও আরও ইতিবাচক হবে।

