দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম একুশ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে দেশের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আগামী দিনগুলোতে বিমান ভ্রমণের খরচ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশীয় রুটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য জেট ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম প্রায় ১৩১ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১৫৯ টাকার কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত জ্বালানির দাম প্রতি লিটার প্রায় ৮৬ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে এক ডলারেরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক আদেশে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করে জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি, যা একই রাত থেকে কার্যকর হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধিতে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব গিয়ে পড়বে দেশি ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী ভাড়ায়।
রাষ্ট্রীয় জ্বালানি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ও এর অধীন একটি তেল কোম্পানির প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে একটি গণশুনানির আয়োজন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর এবং ঋণপত্র নিষ্পত্তিতে ব্যবহৃত মার্কিন ডলারের বিনিময় হার—এই দুটি বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আগস্ট মাসের জন্য নতুন এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
উড়োজাহাজ পরিচালনা সংগঠনের একজন শীর্ষ নেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে, এবং যৌক্তিকভাবে এর প্রভাব যাত্রী ভাড়ার ওপরও পড়া উচিত। তাঁর হিসাবে, জ্বালানির দাম এখন প্রতি লিটার প্রায় ২৩০ টাকায় পৌঁছেছে, যার প্রেক্ষিতে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় সাড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো যুক্তিসংগত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির তাৎক্ষণিক প্রভাব প্রথমে এয়ারলাইনসের ওপরই পড়বে, কারণ তাদের পরিচালন ব্যয় সরাসরি বেড়ে যাচ্ছে।
একটি বেসরকারি এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বাড়তি এই ব্যয়ের বোঝা টিকিটের দামে যুক্ত না করলে তা পুষিয়ে নেওয়া এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত লোকসানের দিকে ঠেলে দিতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
অন্যদিকে ঢাকাভিত্তিক আরেকটি বেসরকারি এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আগামী দুই সপ্তাহেও যদি জ্বালানির দাম না কমে, তাহলে তাঁরা এর সামগ্রিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদে এয়ারলাইনস খাতের ওপর যেমন আর্থিক চাপ তৈরি করবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে তা যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয়েও প্রতিফলিত হতে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

