নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। কমিশনের গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রতি কিলোওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ছয় টাকা আটচল্লিশ পয়সায় কেনার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুই হাজার পনেরো সালে প্রণীত ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি’ অনুসরণ করে এখন থেকে এই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চাইলে সরাসরি বড় শিল্প বা বাণিজ্যিক গ্রাহকের কাছেও বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আজ রোববার একটি গণশুনানির আয়োজন করে জ্বালানি নিয়ন্ত্রক এই সংস্থাটি। শুনানির আগে বিভিন্ন বিতরণ সংস্থা জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের জন্য কী পরিমাণ চার্জ আরোপ করা উচিত, তা নিয়ে নিজ নিজ প্রস্তাবনা জমা দেয়।
জমা পড়া প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, উচ্চ ভোল্টেজবিশিষ্ট একশ বত্রিশ কেভি সঞ্চালন লাইনের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে খরচ পড়বে এক টাকা সাতষট্টি পয়সা থেকে দুই টাকা বিয়াল্লিশ পয়সার মধ্যে। অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ের জন্য ব্যবহৃত শূন্য দশমিক চার কেভি লাইনে সর্বোচ্চ খরচ ধরা হয়েছে তিন টাকা বিয়াল্লিশ পয়সা পর্যন্ত। এই হিসাবের মধ্যে সঞ্চালন চার্জের পাশাপাশি বিতরণ মাশুল এবং ক্রস-সাবসিডি চার্জও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে বিইআরসির কারিগরি কমিটি এই প্রস্তাবগুলো খুঁটিয়ে যাচাই-বাছাই করছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চূড়ান্তভাবে ট্যারিফ নির্ধারণ হয়ে গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বাড়বে, যা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

