বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নিজস্ব প্রযুক্তিতে একটি স্কাওরিং মেশিন তৈরি করেছে, যা এখন কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
কোম্পানির টেক্সটাইল মিলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা মেশিনটির নকশা তৈরি থেকে শুরু করে উৎপাদনের পুরো কাজ সম্পন্ন করেছেন।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই মেশিনের মাধ্যমে কাপড় পরিষ্কার করা, কোমলতা ও শোষণক্ষমতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন পর্যায়ের প্রক্রিয়াকরণে আরও বেশি সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ ধরনের ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রেও মেশিনটি আরও ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য ফল দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনভয় টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আহমেদ জানান, একই ধরনের একটি মেশিন বিদেশ থেকে আমদানি করতে প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হতো। বিপরীতে নিজস্ব প্রকৌশলীদের মাধ্যমে দেশেই মেশিনটি তৈরি করায় খরচ হয়েছে খুবই কম।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেশিন তৈরিতে পুরোনো যন্ত্রাংশের পাশাপাশি কিছু বর্জ্য উপকরণও ব্যবহার করা হয়েছে।
কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের মাধ্যমে এমন একটি মেশিন তৈরি করা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করার সক্ষমতা রাখে।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের আধুনিক উৎপাদন ও ফিনিশিং প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় উন্নত যন্ত্রপাতির বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের পাশাপাশি আমদানিকৃত যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহেও সময় ও অর্থ ব্যয় হয়।
নিজস্বভাবে এ ধরনের মেশিন তৈরি করা গেলে সেই নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রের নকশা পরিবর্তন ও উন্নয়ন করা সহজ হবে। একই সঙ্গে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সময়ও কমানো সম্ভব হতে পারে।
এনভয় টেক্সটাইলসের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন মেশিনটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৌশলভিত্তিক উদ্ভাবনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার অংশ।
কোম্পানির চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু আমদানি ব্যয় কমানো নয়; বরং উৎপাদন দক্ষতা, পণ্যের মান এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো।
সম্প্রতি কারখানা প্রাঙ্গণে মেশিনটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কুতুবউদ্দিন আহমেদ, পরিচালক সুমাইয়া আহমেদ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশীয় প্রকৌশলীদের তৈরি এই মেশিন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে ‘নিজেদের প্রয়োজনের প্রযুক্তি নিজেরাই তৈরি’ করার প্রবণতা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

