প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা কিছু বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। রিচার্জের সময় হঠাৎ বাড়তি টাকা কেটে নেওয়া, তথাকথিত ভূতুড়ে বিল, ছুটির দিন বা রাতের বেলা হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং দাম পরিবর্তনের পর অস্বাভাবিক দীর্ঘ টোকেন পাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে গ্রাহকদের মনে জমে থাকা প্রশ্নের জবাব দিয়েছে সংস্থাটি।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব বিষয়ে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত নিয়মকানুন খোলাসা করে তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বাড়তি টাকা কাটার পেছনের মূল কারণ হলো ডিমান্ড চার্জ, যা গ্রাহকের অনুমোদিত বিদ্যুৎ লোডের ভিত্তিতে প্রতি মাসে একবার করে কাটা হয়ে থাকে। কোনো গ্রাহক যদি টানা কয়েক মাস রিচার্জ না করেন, তাহলে পরবর্তী রিচার্জের সময় জমে থাকা সব মাসের ডিমান্ড চার্জ এবং চলতি মাসের চার্জ একসঙ্গেই কেটে নেওয়া হয়। যেমন, আবাসিক শ্রেণির দুই কিলোওয়াট লোডের কোনো গ্রাহক যদি তিন মাস রিচার্জ না করেন, তাহলে প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা হিসাবে মোট ২৫২ টাকা একবারে কাটা হবে। এর বাইরে সরকারি নিয়ম মেনে রিচার্জের টাকার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাটও কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
মিটার ভাড়া নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি। গ্রাহক নিজের খরচে মিটার কিনলে বা বদলালে কোনো ভাড়া গুনতে হয় না। তবে ডিপিডিসির সরবরাহ করা সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারিত রয়েছে।
বিদ্যুতের দাম পরিবর্তনের পর রিচার্জে অস্বাভাবিক লম্বা টোকেন পাওয়ার বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেছে ডিপিডিসি। নতুন দাম কার্যকরের পর প্রথম রিচার্জে ২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের একটি দীর্ঘ টোকেন আসে, যা মূলত নতুন মূল্যহার মিটারে যুক্ত করার জন্যই প্রয়োজন হয়। পরবর্তী রিচার্জগুলোতে টোকেনের ডিজিট সংখ্যা আবার স্বাভাবিক বিশটিতে ফিরে আসে। এই ম্যানুয়াল ঝামেলা কমাতে বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির প্রিপেইড মিটার বসানো হচ্ছে, যেখানে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে রিচার্জ করার সুযোগ থাকছে।
তথাকথিত ভূতুড়ে বিল প্রসঙ্গে ডিপিডিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটারে কারিগরিভাবে এমন কোনো সুযোগ নেই— নির্ধারিত মূল্যহার অনুযায়ীই ব্যালেন্স কাটা হয়। তবে বৈদ্যুতিক সংযোগের নিউট্রাল লাইনে সমস্যা থাকলে বিলে কিছুটা অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে বলে স্বীকার করেছে সংস্থাটি।
গ্রাহকদের স্বস্তির খবর হলো, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং প্রতিদিন বিকাল চারটা থেকে পরদিন সকাল দশটা পর্যন্ত সময়কে ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময়ে মিটারের ব্যালেন্স শূন্য হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা যাবে না, বরং নেগেটিভ ব্যালেন্সেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকবে, যা পরবর্তী রিচার্জের সময় সমন্বয় করে নেওয়া হবে। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স সুবিধাও ব্যবহার করতে পারবেন।
কোনো কারিগরি ত্রুটি বা বিল সংক্রান্ত জটিলতায় পড়লে গ্রাহকদের নিজ গ্রাহক নম্বর ও মিটার নম্বর সঙ্গে নিয়ে ডিপিডিসির হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি নিকটস্থ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সরাসরি গিয়েও সমাধান নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

