সরকারি মজুত বাড়াতে ৯ হাজার টন ছোলা এবং ১ কোটি লিটার পরিশোধিত চালের কুঁড়ার তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার অস্ট-গ্রেইন এক্সপোর্টসের কাছ থেকে ৯ হাজার টন ছোলা কেনা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে ১ কোটি লিটার চালের কুঁড়ার তেল কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দেশীয় চারটি প্রতিষ্ঠান এই তেল সরবরাহ করবে।
এদিকে দেশে গ্যাসের জরুরি চাহিদা মেটাতে ফ্রান্সের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে নয় মাসে মোট ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অক্টোবর থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুটি করে কার্গো আমদানি করা হবে। প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর চেয়েও বেশি গ্যাস কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গ্যাস আমদানি করা হবে। প্রতি কার্গো গ্যাসের মূল্য এশিয়ার আন্তর্জাতিক বাজারদর জাপান-কোরিয়া সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমসিএফে শূন্য দশমিক শূন্য ছয় মার্কিন ডলার যোগ করে নির্ধারণ করা হবে। এই দর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গানভরের কাছ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত আমদানির জন্য নির্ধারিত দরের তুলনায় কিছুটা কম।
কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির চুক্তি রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে দেশ দুটি চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার আন্তর্জাতিক খোলাবাজার থেকে গ্যাস কেনার পাশাপাশি বিকল্প উৎসও খুঁজছে।
এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গানভরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির চুক্তি করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ১৪ কার্গো গ্যাস আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্গোর জন্য প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক শূন্য আট সাত পাঁচ মার্কিন ডলার দাম নির্ধারণের কথা রয়েছে।
তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য প্রস্তাবিত দুটি কার্গোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউতে ২৪ মার্কিন ডলারের বেশি হওয়ায় সেগুলো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যুদ্ধ শুরুর আগে একই পরিমাণ গ্যাসের বাজারদর সাধারণত ১০ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে ছিল।

