চলতি অর্থবছরে দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হলো নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম। সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে কম দামি স্তরের প্রতি দশ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এখন থেকে ন্যূনতম পঁয়ষট্টি টাকা। আগে এই মূল্য ছিল বাষট্টি টাকা, অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্তে যুক্ত হলো আরও তিন টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে বৃহস্পতিবার জারি হওয়া একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শুধু নিম্নস্তরের সিগারেটের দামেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে; বাকি স্তরগুলোর মূল্য অপরিবর্তিত থাকছে।
নতুন প্রজ্ঞাপনের পরও অন্য তিনটি স্তরের সিগারেটের দাম আগের মতোই বহাল রয়েছে। মধ্যম শ্রেণির সিগারেটে প্রতি দশ শলাকার জন্য গ্রাহককে গুনতে হবে বিরানব্বই টাকা, উচ্চ শ্রেণির জন্য একশ ষাট টাকা এবং প্রিমিয়াম শ্রেণির সিগারেটের ক্ষেত্রে দাম দুইশ দশ টাকা বা তার বেশি রাখা হয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপট খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময়ে। তখন সরকার সব ধরনের সিগারেটের দাম একসঙ্গে বাড়িয়েছিল। ওই বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেট ষাট টাকা থেকে বাষট্টি টাকায়, মধ্যম স্তরের সিগারেট আশি টাকা থেকে বিরানব্বই টাকায়, উচ্চ স্তরের সিগারেট একশ চল্লিশ টাকা থেকে একশ ষাট টাকায় এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট একশ পঁচাশি টাকা থেকে দুইশ দশ টাকা বা তার ঊর্ধ্বে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে বাজেট পাসের পরও সরকার থেমে থাকেনি। নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয় এবং সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় এই স্তরের সিগারেটের দাম আরও বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। মন্ত্রিসভার সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হিসেবেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করল, যার ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটে যুক্ত হলো অতিরিক্ত তিন টাকা।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম দুই দফায় বেড়েছে। প্রথমে বাজেটের মাধ্যমে ষাট টাকা থেকে বাষট্টি টাকা করা হয়, আর এখন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা আরও তিন টাকা বেড়ে পঁয়ষট্টি টাকায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তামাকজাত পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধি — এই দুই লক্ষ্য মাথায় রেখেই সরকার বারবার সিগারেটের ওপর মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে চারটি স্তরের মধ্যে একমাত্র নিম্নস্তরেই বাজেটের পর অতিরিক্ত এই সমন্বয় আনা হলো, অন্য তিন স্তরে বাজেটের সময় নির্ধারিত দামই বহাল থাকছে।

