বাংলাদেশে গাড়ির ব্যবসা সম্প্রসারণে স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডে আরও ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করছে জাপানের টয়োটা গ্রুপের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টয়োটা সুশো করপোরেশন। নতুন এই মূলধন যোগ হলে প্রতিষ্ঠানটির মোট মূলধন বেড়ে দাঁড়াবে ৬০৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। গাড়ি আমদানি, বিক্রি ও বিক্রয়োত্তর সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে ভবিষ্যতে গাড়ি উৎপাদনের পরিকল্পনার মধ্যে এ বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ৩০ অক্টোবর টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক ঘোষণায় অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগের তথ্য জানিয়েছে টয়োটা সুশো। কোম্পানির ঘোষণায় বিনিয়োগের পরিমাণ ১ হাজার ৪১২ মিলিয়ন টাকা, যা জাপানি মুদ্রায় ১ হাজার ৮১৫ মিলিয়ন ইয়েন। এই অর্থ যোগ হলে টয়োটা বাংলাদেশের মূলধন দাঁড়াবে ৬ হাজার ৪১ মিলিয়ন টাকা বা ৭ হাজার ৭৭০ মিলিয়ন ইয়েন। তবে নতুন বিনিয়োগের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ঘোষণায় শুধু বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তাদের গতিশীলতা ও গাড়িসংশ্লিষ্ট ব্যবসা সম্প্রসারণে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।
বিনিয়োগের ঘোষণাটি এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের সময় টয়োটার মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের এক দিন পর। এর আগে গত ৬ অক্টোবর টয়োটা সুশোর ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল (এইচইভি) উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। ২০২৯ সালে সেখানে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই গাড়ি উৎপাদন প্রকল্পে নতুন ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকার পুরো অর্থ বা কোনো নির্দিষ্ট অংশ ব্যয় হবে কি না, তা এখনো জানানো হয়নি।
টয়োটা বাংলাদেশের মালিকানায় রয়েছে টয়োটা সুশো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান। সিঙ্গাপুরভিত্তিক টয়োটা সুশো এশিয়া প্যাসিফিকের হাতে রয়েছে ৯৯ শতাংশ শেয়ার, আর টয়োটা সুশো সরাসরি বাকি ১ শতাংশের মালিক। নতুন মূলধন যোগ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মূলধন টয়োটা সুশোর নিজস্ব মূলধনের ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। সে কারণে জাপানি কোম্পানিটির হিসাব অনুযায়ী টয়োটা বাংলাদেশ তাদের ‘স্পেসিফায়েড সাবসিডিয়ারি’ বা বিশেষ শ্রেণির সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে। বাংলাদেশে টয়োটা সুশোর ব্যবসা সম্প্রসারণের কেন্দ্র হিসেবে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা হয়।
টয়োটা বাংলাদেশ বর্তমানে টয়োটা গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট বিক্রি ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ সময়ে মূল কোম্পানির মালিকদের হিসাবে নিট লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদ ছিল প্রায় ৮৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং সমন্বিত ইকুইটি ৬৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। টয়োটা সুশোর ঘোষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত বিনিয়োগের কারণে ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে তাদের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।
গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবার পরিসরও বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। টয়োটা বাংলাদেশের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় কন্টিনেন্টাল ওয়ার্কস লিমিটেড এবং চট্টগ্রামে কারবয় প্রাইভেট লিমিটেডকে আসল যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন অয়েল ও গাড়ি সার্ভিসিংয়ের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এসব সেবা শুধু নতুন টয়োটা গাড়ির ক্রেতাদের জন্য নয়, আগে থেকে টয়োটা গাড়ি ব্যবহার করছেন এমন গ্রাহকেরাও নিতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, বাংলাদেশের বাজারে গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট সেবার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যবসার পরিসরও সম্প্রসারিত হবে।

