উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় তৈরি হওয়া লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে আরও অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির পেছনে বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিত অংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি বৃষ্টির পরিমাণও বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির বিস্তৃতি তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাঁচ বিভাগে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা
পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলে একটানা বৃষ্টি না হলেও বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
অর্থাৎ দেশের কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে বৃষ্টির পরিস্থিতি সীমাবদ্ধ থাকবে না। মৌসুমি নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর সম্মিলিত প্রভাবে দেশের উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কোথাও হতে পারে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ
সাধারণ বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
একই এলাকায় স্বল্প সময়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলে নিচু অঞ্চলগুলোতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। নগর এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল হলে সাময়িক জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষিকাজ এবং দৈনন্দিন চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে বৃষ্টির পূর্বাভাসকে সার্বিকভাবে মৌসুমি আবহাওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নিম্নচাপটি কোন দিকে কতটা অগ্রসর হয় এবং এর শক্তি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির বিস্তৃতি ও মাত্রা নির্ভর করবে।
দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে
বৃষ্টির প্রভাবে দেশের দিনের তাপমাত্রায়ও কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
তবে রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ দিনের বেলায় বৃষ্টি ও মেঘের কারণে গরম কিছুটা কম অনুভূত হলেও রাতের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া থাকায় খোলা জায়গা, নৌপথ এবং দুর্বল স্থাপনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। বজ্রবৃষ্টির সময় বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ে অবস্থান না করাই নিরাপদ।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও অব্যাহত থাকতে পারে বৃষ্টি
মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাব শুধু মঙ্গলবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় তখনও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা থাকবে। ফলে যেসব অঞ্চলে টানা বা ভারি বৃষ্টি হবে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের অর্থ কী?
বাংলাদেশে বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া এবং পরে সেটি শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে রূপ নেওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে নিম্নচাপের অবস্থান, গতিপথ এবং শক্তির ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব একেক সময় একেক অঞ্চলে ভিন্ন হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে একদিকে যেমন দিনের তাপমাত্রা কমে সাময়িক স্বস্তি আসতে পারে, অন্যদিকে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হলে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা, যোগাযোগে বিঘ্ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
তাই আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, সেখানে নদী ও জলাশয়ের পানি, স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিচু এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরের মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়ার সম্ভাবনাই এখন বেশি। মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও আট বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় বর্ষার সক্রিয়তা আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

