১৯৮৬ সালের ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর ইউক্রেনের চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা মানুষের বসবাসের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তেজস্ক্রিয় দূষণের কারণে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয় ‘চেরনোবিল এক্সক্লুশন জোন’। সেই বিপর্যয়ের বহু বছর পরও অঞ্চলটির মাটি ও পরিবেশে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি উদ্বেগের কারণ। তবে প্রতিকূল এই পরিবেশেও টিকে আছে নানা ধরনের উদ্ভিদ ও বুনো ফুল।
সূর্যমুখী, ডেইজি ও বুনো অর্কিডের মতো উদ্ভিদ প্রতিকূল পরিবেশেও বেড়ে উঠতে পারে। কিছু উদ্ভিদ তেজস্ক্রিয় পদার্থযুক্ত মাটি থেকে নির্দিষ্ট উপাদান শোষণ করার ক্ষমতা রাখে। উদ্ভিদের মাধ্যমে দূষিত মাটি থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফাইটোরেমিডিয়েশন’।
এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের শিকড় মাটি থেকে সিজিয়াম ও স্ট্রনশিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় উপাদান শোষণ করতে পারে। তবে সব উদ্ভিদ সমানভাবে এসব উপাদান শোষণ করে না। কোন উদ্ভিদ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে উদ্ভিদের প্রজাতি, মাটির বৈশিষ্ট্য এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের ধরন ও ঘনত্বের ওপর।
ফাইটোরেমিডিয়েশন পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময় একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি হলেও এর কার্যকারিতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদ্ভিদ তেজস্ক্রিয় পদার্থ শোষণ করলেই সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপাদান উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে জমা হয়। ফলে দূষিত উদ্ভিদ সংগ্রহ, নিরাপদে সংরক্ষণ এবং যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা জরুরি।
চেরনোবিলের মতো তেজস্ক্রিয় দূষণপ্রবণ অঞ্চলে উদ্ভিদের অভিযোজন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে তাদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে।
প্রকৃতি নিজস্ব উপায়ে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার চেষ্টা করে। চেরনোবিলের উদ্ভিদজগৎ সেই অভিযোজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে তেজস্ক্রিয় দূষণ মোকাবিলায় শুধু উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করা যায় না; প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, দূষিত পদার্থের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত গবেষণা।

