জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি মূল্যায়নে বড় ঘাটতি উঠে এসেছে। বৈশ্বিক এক মূল্যায়নে বাংলাদেশ ৩২-এর মধ্যে ১৩ পয়েন্ট পেয়েছে। তবে জলবায়ু কার্যক্রমে অর্থায়ন এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন—এই দুই ক্ষেত্রে দেশটি কোনো পয়েন্ট পায়নি।
সোমবার প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ অ্যালায়েন্সের (জিসিএইচএ) ২০২৬ সালের ‘হেলদি ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস’ স্কোরকার্ডে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে ১৩২টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে ১১৭টি জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা আটটি বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
স্কোরকার্ড অনুযায়ী, জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং অগ্রগতি পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু পদক্ষেপের সুফল স্বীকার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পূর্ণ ৪ পয়েন্ট পেয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য পেয়েছে ৪-এর মধ্যে ৩ পয়েন্ট।
এ ছাড়া বায়ুদূষণ ও সমন্বিত শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে ২ পয়েন্ট করে পেয়েছে দেশটি। স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং ন্যায়সংগত রূপান্তর—এই দুই বিভাগে পেয়েছে ১ পয়েন্ট করে।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় দেশগুলো জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) জমা দেয়। এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশগুলোর পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের এনডিসিতে স্বাস্থ্য অধিকার এবং পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই পরিবেশের অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশটির অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, রোগের প্রাদুর্ভাবসংক্রান্ত আগাম সতর্কবার্তা উন্নত করা, জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা।
বাংলাদেশে বায়ুদূষণ এখনো জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় উদ্বেগ। স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের তথ্যের ভিত্তিতে স্কোরকার্ডে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর হার ২৫৯ দশমিক ২ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিসিএইচএর নির্বাহী পরিচালক জেনি মিলার বলেন, কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বায়ুর মান উন্নয়নের বিষয়টি সরকারগুলোকে উপলব্ধি করতে হবে। তাঁর ভাষায়, বায়ুর মান এবং জলবায়ু—উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
মূল্যায়নে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে কলম্বিয়া। এরপর নাইজেরিয়া ২৫ এবং কম্বোডিয়া ২৪ পয়েন্ট পেয়েছে।বাংলাদেশের সমান ১৩ পয়েন্ট পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্কোর ১২ এবং ইন্দোনেশিয়ার ১১।
মূল্যায়নে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত কিছু উদ্যোগের স্বীকৃতি মিললেও অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে শূন্য স্কোর জলবায়ু-স্বাস্থ্য পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা তুলে ধরেছে।

