অধ্যাপক বদিউজ্জামান খানের নেতৃত্বে গবেষকেরা শীতকালে ত্রিশালের ২৫টি খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রতিটি পুকুরের তলদেশের পলিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। পলিতে প্রতি কেজিতে গড়ে প্রায় ১১টি কণা পাওয়া গেছে। দূষণভার সূচকের মান ছিল ১ থেকে ৪ দশমিক ৫, যার ভিত্তিতে বেশির ভাগ নমুনা সংগ্রহস্থলকে মাঝারি থেকে উচ্চ দূষণযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ছয় প্রজাতির ১৫০টি মাছ পরীক্ষা করে মোট ৯০টি কণা শনাক্ত করা গেছে, অর্থাৎ মাছ প্রতি গড়ে ০.৬০টি। সবচেয়ে বেশি কণা পাওয়া গেছে সরপুঁটিতে, গড়ে ১.২০টি। রুই ও মৃগেলে এ গড় ০.৬৮। কাতলা, কমন কার্প ও পাঙাশে তুলনামূলক কম কণা মিলেছে। বসবাসের স্তর অনুযায়ী মোট কণার ৫২ শতাংশ পাওয়া গেছে তলদেশের মাছে, ৩৫ শতাংশ মধ্যস্তরের মাছে এবং ১৩ শতাংশ উপরিভাগের মাছে। প্রধান পলিমার হিসেবে শনাক্ত হয়েছে পলিথিন ও পলিপ্রপিলিন।
অধ্যাপক বদিউজ্জামান বলেন, কিছু ফিডে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে, আবার বন্যার পানির সঙ্গেও অন্য এলাকার কণা পুকুরে আসতে পারে। মাছের পরিপাকতন্ত্রেই মূলত এসব কণা পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, পলিমারের ধরন দেখে নির্দিষ্ট কোনো উৎসকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। উৎস নিশ্চিত করতে ফিড, পাইপ ও পুকুরে ঢোকা পানির আলাদা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশালে ২২ হাজার পুকুরে মাছ চাষ হয় এবং বছরে উৎপাদন ৭২ হাজার মেট্রিক টন। জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন জানান, পুকুরপাড়ে পোলট্রি খামারের কারণে দূষণ হতে পারে। এ নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে এবং একটি পুকুরের পাশ থেকে মুরগির খামার সরানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, দূষণের মাত্রা, মাছের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি নির্ধারণে আরও গবেষণা দরকার।
সূত্র: প্রথম আলো

