বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে বিদায় নিলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত আছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ ১৪ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ ছাড়া দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। সেটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় একই ধরনের আবহাওয়ার সম্ভাবনা আছে। শনিবার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। রোববার রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে মঙ্গলবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ওই দিন কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। রাত ও দিনের তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৬, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও রাজশাহীর বাঘাবাড়ীতে ১৩, বান্দরবানে ১২, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১১, টাঙ্গাইলে ১০, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৮ এবং নওগাঁর বদলগাছীতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সামনের কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস আছে। দক্ষিণ আন্দামান সাগরের নতুন লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয় কি না, সেদিকে নজর থাকবে। নদীবন্দর ও নৌযান চলাচলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা জরুরি।

