দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান শেভরন বাংলাদেশে নেতৃত্বের পালাবদল ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শু শিয়ং। এর আগে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন এরিক এম ওয়াকার। আজ থেকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নতুন এই কর্মকর্তা।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে শু শিয়ং শেভরন চায়নার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের উত্তোলন-সংক্রান্ত মূল ব্যবসা এবং জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের কার্যক্রম দেখাশোনার পাশাপাশি একাধিক যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পেও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় শু শিয়ং বলেন, বাংলাদেশে শেভরনের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে শেভরনের যে তিন দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে, তিনি সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বর্তমান এবং আগামী দিনের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আরও মজবুত করাই তাঁর লক্ষ্য। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিও তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন।
শু শিয়ংয়ের কর্মজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০৭ সালে শেভরনে যোগদানের পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের দায়িত্ব সামলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক কৌশল প্রণয়ন, বাজার পূর্বাভাস তৈরি, বাণিজ্যিক লেনদেন পরিচালনা এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মতো দায়িত্বশীল ক্ষেত্র। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
উল্লেখ্য, শেভরন বাংলাদেশ মূলত দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়—একটি ব্লক বারো এবং অন্যটি ব্লক তেরো ও চৌদ্দ নিয়ে গঠিত। একত্রে এই দুটি প্রতিষ্ঠানকেই শেভরন বাংলাদেশ নামে অভিহিত করা হয়। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত শেভরন বাংলাদেশের দেশীয় মোট গ্যাস উৎপাদনে অবদান প্রায় ৬০ শতাংশ, আর দেশীয় কনডেনসেট উৎপাদনে এই অবদান ৮৩ শতাংশের বেশি। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্বেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তন সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশল ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই করা হয়। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে বাংলাদেশে শেভরনের কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে যায়, সেদিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।

