২০২৬ সালের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নবীন আইনজীবীদের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ ফি আকাশছোঁয়া হারে নির্ধারণ করায় আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে তিনি বিষয়টি নিশ্চিতও করেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বয়স ও পেশাগত অবস্থাভেদে সদস্যপদ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন হারে। ৪০ বছরের নিচে নবীন আইনজীবীদের জন্য ফি ধরা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। অন্য পেশা থেকে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্তদের জন্য চার লাখ টাকা এবং সরকারি চাকরি থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরই নবীন আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য জেলা আইনজীবী সমিতির তুলনায় এই ফি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনে সদস্যপদ ফি যেখানে প্রায় ২৯ হাজার টাকার মধ্যে সীমিত, সেখানে কুড়িগ্রামের এই ফি বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
নবাগত আইনজীবীদের অনেকে এটিকে “পেশায় প্রবেশের পথে কৃত্রিম বাধা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই ধার-দেনা কিংবা সম্পত্তি বন্ধক রাখার মতো পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নবীন আইনজীবী বলেন, “এটি আমাদের জন্য বড় ধরনের বাধা। অনেকের পক্ষেই এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপ চাই।”
অন্যদিকে সমিতির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম জানান, সাধারণ সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি সদস্যদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, মাসিক ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং আরও ২ হাজার টাকা ডিপিএস সুবিধা।

সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। চলতি বছরে আরও প্রায় অর্ধশতাধিক নতুন সদস্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এই সমিতিতে সদস্যপদ ফি ছিল মাত্র ২৯ হাজার টাকা। গত ১৩ বছরে ধাপে ধাপে তা বৃদ্ধি পেয়ে গত বছর এক লাখ টাকার কিছু বেশি এবং বর্তমানে আড়াই লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া সদস্যপদ ছাড়াও ‘ওকালতনামা’ বাবদ ৪০০ টাকা নেওয়া হয়ে থাকে।
এদিকে শুধু নবীন নয়, অনেক পুরোনো সদস্যও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনীহা দেখাচ্ছেন। আইন পেশায় অবস্থান ও সম্পর্কের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে বিরোধিতা থেকে বিরত থাকছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির এই ফি নির্ধারণ আইন অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছেই।

