বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে রাজধানীর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে চালু হচ্ছে নৈশকালীন ডাকসেবা। বিদ্যমান সাব-পোস্ট অফিসের পাশাপাশি এখন দ্বিতীয় শিফটে ডাকঘর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাক অধিদপ্তর, যা আদালত সংশ্লিষ্ট সেবায় নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, হাইকোর্ট উপ-ডাকঘরে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ডাকসেবা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, সেবা চালুর পর এর কার্যকারিতা মূল্যায়নে তিন মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের পেছনে আইনজীবীদের দাবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক আইনজীবী উচ্চ আদালতের আদেশ ও জরুরি নথিপত্র দ্রুত আদান-প্রদানের সুবিধা নিশ্চিত করতে সান্ধ্যকালীন ডাকসেবা চালুর আবেদন জানান। সেই প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
নতুন এই সেবা চালু হলে আদালতের আদেশ, নোটিশসহ বিভিন্ন আইনি কাগজপত্র দ্রুত সংশ্লিষ্ট জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে দেওয়া জামিনের আদেশ দ্রুত জেলা আদালতে পাঠানো গেলে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের মুক্তির প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হবে।
যদিও বর্তমানে অনেক আদেশ অনলাইনে পাঠানো হয়, তবুও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ডাকযোগে প্রেরিত নথির গুরুত্ব এখনও অপরিসীম। তাই ডাকসেবার গতি বাড়ানোকে বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নৈশকালীন ডাকঘর চালু হলে বিচারপ্রার্থী জনগণের সময় ও খরচ কমবে, একই সঙ্গে আদালত-সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতাও কিছুটা হ্রাস পাবে।

