দেশে রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে সাধারণত আসামির দলীয় পরিচয় উল্লেখ করা হয় না। ফলে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের বিরুদ্ধে ঠিক কতটি মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
গত মঙ্গলবার সংসদে পাবনা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য দেন আইনমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী আরও জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এ ধরনের মামলার কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য বর্তমান সরকার একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু করেছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি মামলার নথি, এজাহার, চার্জশিটের সার্টিফায়েড কপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যদি দেখা যায় মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানির জন্য করা হয়েছে এবং তা জনস্বার্থে চালানোর প্রয়োজন নেই, তবে তা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।
এরপর জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

