বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। চুক্তিটি দেশের স্বার্থবিরোধী, কাঠামোগতভাবে ভারসাম্যহীন এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার এক আইনজীবী এ রিট আবেদন করেন। পরে আরেক আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। রিটে পররাষ্ট্র, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে করা এই বাণিজ্য কাঠামোটি যথাযথ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়নি। ফলে এটি আইনি বৈধতা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা—উভয় দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তির শর্তগুলোতে শুল্ক ব্যবস্থায় অসমতা রয়েছে, যা বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারণে স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেশীয় শিল্প খাত, কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি সাধারণত দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ভিত্তিতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে কাঠামোগত ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা বিচারিক পর্যালোচনার দাবি রাখে।
রিটটি এখন আদালতের প্রাথমিক শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত যদি এটি গ্রহণযোগ্য মনে করে, তাহলে চুক্তির আইনগত ভিত্তি ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হতে পারে। এতে করে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি প্রণয়নের ক্ষেত্রে নীতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

