জমি কিনে টাকা পরিশোধ করলেও অনেক সময় দলিলের টেকনিক্যাল ভুলের কারণে মালিকানা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের জটিলতা তৈরি হলে অনেকেই মামলা বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কথা ভাবেন। তবে এর একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান রয়েছে, যার নাম বহালকরণ দলিল।
জমি কেনার সময় যদি কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি থেকে যায়, তবে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সম্মতিতে আগের দলিলকে স্বীকৃতি দিয়ে নতুন করে যে দলিল তৈরি করা হয়, সেটিই বহালকরণ দলিল। এটি আগের দলিল বাতিল করে না, বরং সেটিকে আরও শক্তিশালী ও আইনি দিক থেকে ঝুঁকিমুক্ত করে।
ধরা যাক, কেউ আমমোক্তারনামার মাধ্যমে জমি কিনেছেন। পরে মূল মালিক হঠাৎ মারা গেলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে মালিকের ওয়ারিশরা যদি সদিচ্ছা দেখান, তাহলে একটি বহালকরণ দলিলের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে দীর্ঘ মামলা-মোকদ্দমার প্রয়োজন পড়ে না।
আবার এমনও হতে পারে, অনেক বছর আগে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, কিন্তু মালিকানার নথিতে কোনো ত্রুটি রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে আদালতে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সম্মতিতে পূর্বের দলিলকে স্বীকৃতি দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায়।
আরও একটি উদাহরণে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ধরুন, প্রায় দশ বছর আগে একজন জমি কিনেছেন। তখন জমির মালিক ছিলেন নাবালক একজন সন্তান। তার মা অভিভাবক হিসেবে জমিটি বিক্রি করেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী এ ধরনের বিক্রির আগে আদালতের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল, যা নেওয়া হয়নি।
পরে সেই সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যদি দাবি করে যে, তার অনুমতি ছাড়া বিক্রি হয়েছে, তাহলে ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে যদি তিনি বুঝে-শুনে আগের বিক্রিকে স্বীকৃতি দেন, তাহলে তিনি একটি বহালকরণ দলিল সম্পাদন করতে পারেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করবেন, শৈশবে তার অভিভাবক তার মঙ্গলের জন্যই জমিটি বিক্রি করেছিলেন এবং তিনি এখন সেই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন।
এভাবে একটি মাত্র দলিলের মাধ্যমে বছরের পুরোনো জটিলতা সহজেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। এতে আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত ও আইনসম্মতভাবে মালিকানা ঝুঁকিমুক্ত করা যায়।
লেখক: অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

