বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও দাখিল করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলমান এই মামলায় এ নিয়ে ৯৫তম বার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছানো হলো।
সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এদিনও প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়। পরে আদালত নতুন করে আগামী ২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, ধারাবাহিকভাবে সময় নেওয়া হলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় মামলাটির অগ্রগতি থমকে আছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ওই সময় জালিয়াতির মাধ্যমে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। পরে ওই অর্থ ফিলিপিন্সে স্থানান্তর করা হয় এবং স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ব্যবহার করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
ঘটনার পর একই বছরের মার্চে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। মামলায় সরাসরি কোনো আসামি না থাকলেও তদন্তে অভ্যন্তরীণ চক্রের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ নিয়ে একাধিকবার আদালতে সময় বাড়ানো হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশ ফিলিপিন্সের তিনটি ক্যাসিনোতে পৌঁছে যায়। এর মধ্যে কিছু অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো কয়েক কোটি ডলার নিখোঁজ রয়েছে।
২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করে। তবে পরবর্তীতে ওই মামলা খারিজ হয়ে যায় এখতিয়ারজনিত কারণে। এরপর আবারও নতুন আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল তদন্ত শেষ না হওয়ায় এ মামলাকে দেশের অন্যতম জটিল ও ধীরগতির আর্থিক অপরাধ তদন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ না হলে অর্থপাচারের প্রকৃত চিত্র উন্মোচন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

