রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়কে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট। এ বিষয়ে একটি রুল জারি করে স্থানীয় সরকার ও আইন মন্ত্রণালয়সহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী মো. শোয়েবুজ্জামান। এতে ঢাকা শহরের ফুটপাতে হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা–২০২৬-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই নীতিমালায় নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের বসার অনুমতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যা নিয়েই আইনি প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতের এই নির্দেশের ফলে রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা ও হকার পুনর্বাসন নীতির আইনি ভিত্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ফুটপাত দখল ও পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
আদালতের রুলে স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার রায় রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনা ও ফুটপাত ব্যবহারের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে হকার পুনর্বাসন ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়টি সামনে আসবে।
এদিকে নীতিমালা নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছিল। অনেকে বলছেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া ফুটপাতে হকার বসার অনুমতি দিলে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। আদালতের নির্দেশের পর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী হয়, সে দিকেই নজর রয়েছে নগরবাসীর।

