আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট এমসিকিউ পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অনিয়মমুক্ত রাখতে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ওএমআর উত্তরপত্র পূরণ, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী বহনের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে পরীক্ষার্থীদের।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির নির্দেশনায় সংস্থাটির সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর বিবিসি/এনরোল/২০২৬/১৬৬০।
বার কাউন্সিল জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই মূল প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে প্রার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্রের আসন বিন্যাস অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ১৫ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ভুলবশত অন্য কোনো কেন্দ্রে গেলে সেখানে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। রোল নম্বরভিত্তিক চূড়ান্ত আসন বিন্যাস আগামী ১০ জুন বুধবার সন্ধ্যায় বার কাউন্সিলের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে ওএমআর উত্তরপত্র পূরণের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সেট কোড এবং রোল নম্বর নির্ধারিত স্থানে সঠিকভাবে লিখে সংশ্লিষ্ট বৃত্ত পূরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভুল ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট পৃথকভাবে সরবরাহ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি, সাধারণ ঘড়ি, হিয়ারিং এইড, তথ্য আদান-প্রদানে সক্ষম যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র, নোটবই, খাতা ও ব্যাগ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে উভয় কান দৃশ্যমান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষকরা যথাযথভাবে তদারকি করতে পারেন।
বার কাউন্সিল আরও জানিয়েছে, প্রবেশপত্রে উল্লেখিত সব নির্দেশনা এবং ওএমআর উত্তরপত্রে থাকা নিয়মাবলি সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সময়সীমার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ সকাল ১০টার পরে কোনো প্রার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ সকাল ১১টার পূর্বে কেউ কেন্দ্র বা পরীক্ষাকক্ষ ত্যাগ করতে পারবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, পরিদর্শক বা পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অসদাচরণ করলে কিংবা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হবে।
এছাড়া অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রে দায়িত্বরত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে বার কাউন্সিলের ভবিষ্যৎ পরীক্ষাগুলোতেও অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার কঠোর বার্তা দিয়েছে বার কাউন্সিল। তাই পরীক্ষার্থীদের সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া, নির্দেশনা মেনে চলা এবং ওএমআর শিট পূরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

