শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলার বিচার কার্যক্রম হাইকোর্টে বিরতিহীনভাবে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলার শুনানিতে কোনো ধরনের মুলতবি আবেদন করবে না এবং ধারাবাহিকভাবে শুনানি চালিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। সেই বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আরও জানান, আসন্ন শুনানিতে রামিসা হত্যা মামলাটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং সেখানে বিরতিহীন শুনানির মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
গত ৯ জুন আলোচিত এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর আগে শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে রায় ঘোষণা করে।
আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদন প্রক্রিয়াকেই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় পর্যালোচনা করে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে বিচারিক আদালত ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনালে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করে। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ ভুক্তভোগী শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন এবং তা আদায় না হলে আসামিদের সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঘটনার আগে ভুক্তভোগী শিশুর ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আসামিদের স্বীকারোক্তি ও ভূমিকা মামলাটিকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, এই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ বিচার ব্যবস্থায় শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে একটি কঠোর বার্তা দেবে।

